অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত : ৪ জন তিন দিনের রিমান্ডে


resma প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ ৩ জুলাই , ২০২২
অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত : ৪ জন তিন দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার: নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার চারজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন এ ঘটনার দুই হোতা খুলনা বিএল কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমত উল্লাহ রনি ও মোবাইল মেকার শাওন খান (৪০) এবং রিমন ও মনিরুল ইসলাম।

আজ রবিবার দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান। এ মামলায় ১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, মির্জাপুর কলেজে ওই ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার কারণে সদর থানার ওসি শওকত কবিরকে রবিবার সকালে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, ওসি শওকত কবিরকে নড়াইল সদর থানা থেকে খুলনা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) অফিসে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে।

অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়েব হোসেন চৌধুরী। এ তদন্ত প্রতিবেদন কত পৃষ্ঠার বা ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে চাননি কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত হয়েছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখে-প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেওয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসে রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মুছেনি রাহুল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুদ্ধ জনতা ঘটনার দিন বিকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।