আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৬ তম জন্মবার্ষিকী


yousuf প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৬ তম জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী শনিবার। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ।

নূর মোহাম্মদ শেখের জীবনী থেকে জানা যায়, তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছা (মতান্তরে জেন্নাতা খানম)। বাল্যকালে বাবা-মাকে হারান তিনি।

১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) নামে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্সনায়েক পদে পদোন্নতি পান নূর মোহাম্মদ।

১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এসএ মঞ্জুর।

নূর মোহাম্মদ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

নূর মোহাম্মদ শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা (৭৯) বার্ধক্যজনিত কারণে ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এর আগে ১৯৯০ সালে নূর মোহাম্মদ শেখের প্রথম স্ত্রী তোতা বিবি মারা যান। বর্তমানে ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইল এবং যশোরে বসবাস করছেন।

২০০৮ সালের ১৮ মার্চ তার গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’। এই বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে এখানে নির্মিত হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’, ‘স্মৃতিস্তম্ভ’, ‘স্কুল এবং কলেজ’ এবং নড়াইল শহরে ‘স্টেডিয়াম’ ও বাড়ি।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারে এবং খেলাধূলা চর্চার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নূর মোহাম্মদ নগরে এই বীরশ্রেষ্ঠের নামে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে বিভিন্ন ধরণের ক্লাব ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বীরশ্রেষ্ঠের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে আজ সকালে কোরআনখানি, শোভাযাত্রা, স্মৃতিস্তম্ভে গার্ড অব অনার প্রদান, পুষ্পপস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর বসতভিটায় রেস্টহাউজ বা বিশ্রামাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।