আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত প্রায় গ্রামবাংলার কিশোর কিশোরীদের পুতুলের বিয়ে খেলা

বিনোদন

এস.এইচ.সবুজ (জীবননগর) পুতুলের মধ্য দিয়ে মিছেমিছি বিয়ে খেলায় ব্যস্ত সুমাইয়া আর বৈশাখী। কিন্তু বর্তমান সময়ের সরল শিশুরা স্মার্ট ফোন আর টেলিভিশন পেয়ে তেমন আর এ-ই মিছেমিছি পুতুল বিয়ে দেওয়ায় ব্যস্ত নয়।

কিন্তু এ-ই ডিজিটাল সময়কে হার মানিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার কাশীপুর গ্রামে ঘটকের মাধ্যমে সুমাইয়ার ছেলে পুতুল আর বৈশাখীর মেয়ে পুতুল মিছেমিছি বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে প্রথা অনুযায়ী বর বা কনে বিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে

ছেলে বেলায় ফিরতে কার না মন চায়! জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই সবার একবার মন বলে ‘ছেলে বেলাই বেস্ট’। ছোট্টবেলায় খেলার অন্যতম সঙ্গী ছিল পুতুল।

সভ্যতার ত্রুমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্ত প্রায় কিশোর ও কিশোরীদের পুতুল খেলা। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে পুতুল খেলা খেলেনি এমন মেয়ে খুজে পাওয়া কষ্টকর।

গ্রামবাংলায় বিভিন্ন মেলা,পৌষ সংত্রুান্তি ও নানা পাবর্ণে হরেক রকমের পুতুল পাওয়া যেত।

অবুঝ অতিথীয়তার খেলায় মেতে উঠছে গ্রামের সহজ সরল দুই কিশোরী সুমাইয়া আর বৈশাখী । কল্পনা থেকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার প্রতিভাই হচ্ছে পুতুলের বিয়ে খেলা । কোমল হাতের পরশে দর্জির কাছ থেকে টুকরা কাপড় দিয়ে তারা তৈরি করে ছেলে- মেয়ে বর- কনে ।

রান্না-বান্না, সন্তান লালন- পালন মেয়ে পুতুলের সাথে ছেলে পুতুলের বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের অভিনয় করে তারা খেলছে পুতুল বিয়ে খেলা। অাসলে পুতুল খেলার মধ্যে পুরো সংসারের একটা প্রতিছবি ফুটে ওঠেছে তাদের কাছে।

পুতুলগুলো যেন ওদের ছোট-বড় একটা একটা সন্তান। মায়ের মতোই স্নেহ অার অাদর দিয়ে খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম পাড়ানো পর্যন্ত সব কাজই করছে ওরা দু’জন । কেবল মাত্র অাদর- সোহাগই নয় প্রয়োজনে শাসনও করে তাদের পুতুল সন্তানকে।

পরম আত্মীয়তার সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছে গ্রামের কোমল মতি ওরা দু’জন । অবুঝ কিশোর -কিশোরীদের মধ্যে অতিথীয়তার মান অভিমানও সৃষ্টি হয় । আর এ সম্পর্কের টানে জড় বস্তুর প্রেমে আকৃষ্ট হয় জীবজগৎ। জীবন জগতে প্রত্যেক জীব বৈচিত্র্যময় সম্পর্কের জালে আবদ্ধ। কেউ সাজে পুতুলের মা আবার কেউবা বাবা। চাচা-চাচি,ভাই-বোন,ননদি-দেবর,শ্বশুর-শ্বাশুর সকলেই মমতাময়ীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয় ।

গর্ভ ধারনী মা ও বাবার মত কর্তব্য পালন করেন পুতুলের বাবা-মা। পুতুলকে বিবাহ দেওয়া থেকে যাবতীয় কর্তব্য পালন করে । এই মিছেমিছি সম্পর্কের খেলায় গড়ে ওঠে গ্রাম-গ্রামান্তরের ছেলে-মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ গভীর সম্পর্ক। যা জাতি ধর্ম-বর্ণ গন্ডি ভেঙ্গে চুরমার করে।ফলশ্রুতিতে পৃথিবী ভরে উঠে অতিথীয়তার লালন ভুমিরুপে।

আজ ডিজিটালের কোপে পুতুল খেলা যেন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। কারণ এখন এসে গেছে নতুনত্ব কম্পিউটার বা মোবাইল গেম। আধুনিক সমাজে বাচ্চারা ছোট বেলা থেকেই মোবাইলে গেম খেলে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল গেমের সঙ্গেই বেশী পরিচিত হচ্ছে এবং হরেক রকমের মোবাইল গেমের খেলা মুখস্ত হতে বেশী সময় লাগেনা তাদের। তারা যেন মোবাইলে গেম খেলে সবচেয়ে বেশী অাত্নতৃপ্তি পায় । তারা হয়ে উঠেছে নিষ্ঠুর প্রতারক এক যন্ত্র, নেই কোন মানবতা যেন এক কাঠের পুতুল। কারো কষ্টে তাদের মন গলেনা এর চেয়ে বোধয় পুতুল খেলার হারানো দিনগুলো অনেক ভাল ছিল, দিনগুলো এতো নিষ্ঠুর ছিল না সহজ সরল ছিল প্রতিটা কিশোর কিশোরীর মন। সামান্য পুতুল ভেঙ্গে গেলে তারা কেঁদে ফেলতো পুতুলের মায়ায়, তাই পল্লী কবি জসীম উদ্দীন তার কবর কবিতায় লিখেছেন এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে কেঁদে ভাসাইত বুক। যান্ত্রিক খেলনা শুধু শিশুকে নিষ্ঠুরতাই শিক্ষা দেয় না, কেড়ে নেয় সেই মমতাময়ী সম্পর্কের প্রীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *