আবার আলোচনায় সাকিব


meherin প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ ৮ মার্চ , ২০২২
আবার আলোচনায় সাকিব

ক্রিয়া ডেস্ক : শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচনার বিষয় যেন একটাই। সাকিব মাঠে ভাল করলে ঘাঁটাঘাঁটি চলে তার রেকর্ড নিয়ে, ব্যর্থ হলে সমালোচনা। তবে ইদানীং ব্যাট-বলের পারফর্মেন্সের চেয়ে নেতিবাচক কারণেই বেশি আলোচিত টাইগার ক্রিকেটের পোস্টার বয়। দুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে সাকিবের নাম দেখে অনেকে হয়তো নিশ্চিত হয়েছিলেন, যাক আইপিএল-ইস্যু পেছনে ফেলে কঠিন সিরিজে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভক্তদের এমন স্বস্তি দীর্ঘ হয়নি। সাকিব নিজেই জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দলে নিজেকে ‘প্যাসেঞ্জার’ মনে হচ্ছে তার, খেলাটা একদমই উপভোগ করছেন না, শরীরটাও নেই ঠিকঠাক! তাহলে দরজায় কড়া নাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো কেন? কেনই বা এখনও অনুরোধ করে যাচ্ছে বোর্ড? সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের মতে, সাকিব যেহেতু বড় তারকা তাই বোর্ড (বিসিবি) তাঁকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই অবস্থায় সাকিবেরই দেশের প্রতি, ভক্তদের প্রতি আরেকটু কমিটেড হওয়া উচিত। এসব মোটেই ভাল উদাহরণ নয়।

আফগানিস্তান সিরিজে মনে হয়েছে যে আমি একজন প্যাসেঞ্জার। আমি যা হয়ে কখনোই থাকতে চাই না। আমি খেলা একদমই উপভোগ করতে পারিনি। পুরো সিরিজেই, টি২০ এবং ওয়ানডে। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি। আমার কাছে মনে হয় না, এরকম মন-মানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে আমার খেলা উচিত হবে। এই কথা আমি জালাল ভাইয়ের (ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস) সঙ্গেও আলাপ করেছি। জালাল ভাই বলেছেন, দুদিন তিনি চিন্তা করবেন, আমাকেও চিন্তা করার সময় দিয়েছেন। তার পর সিদ্ধান্ত একটা নেয়া উচিত বা হবে বলে আমি মনে করি।’ ব্যক্তিগত কাজে দুবাই যাওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন সাকিব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে, এরকম যদি মন-মানসিকতা থাকে, এরকম শারীরিক ও মানসিক অবস্থা থাকে, তাহলে দলের জন্যই তা ক্ষতিকর। নিজের প্রতি নিজের যে প্রত্যাশা, মানুষ যা প্রত্যাশা করে পারফর্মেন্স, সেটা যদি করতে না পারি, সেখানে প্যাসেঞ্জার হয়ে থাকাটা খুবই দুঃখজনক হবে, সতীর্থদের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো ব্যাপার হবে বলেই মনে করি।’

তাহলে বোর্ড (বিসিবি) কি আলোচনা না করেই তাঁকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল ঘোষণা করেছে? সাকিব জানিয়েছেন, বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান তাঁর সঙ্গে আলাপ করেছিলেন, তবে পরে মনোভাব বদলে গেছে, ‘পাপন ভাইয়ের (নাজমুল হাসান) সঙ্গে কথা হয়েছিল, আমি তখন রাজিও হয়েছিলাম যে পুরো সিরিজ খেলব। কিন্তু এখন যে মানসিক ও শারীরিক কন্ডিশন দেখছি, আমার কিছু সময় দরকার বলে আমি মনে করি। সেটা হবে পারে, ওয়ানডে সিরিজে বিরতি নিয়ে যদি টেস্ট সিরিজ খেলি, তুলনামূলক ভাল শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় হয়তো থাকতে পারব। সেটা হতে পারে। তবে এগুলো আসলে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে যে কী করলে ভাল হয়। তবে আমার বর্তমান অবস্থা এটা। আমি মনে করি, যদি এই অবস্থায় খেলতে যাই, আমার সতীর্থদের ও দেশের সঙ্গে প্রতারণা করার মতোই ব্যাপার হবে, যা আমি অবশ্যই চাই না।’ ওদিকে সাকিব যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে আগ্রহী নন, এ নিয়ে এত কথা বললেন, এসবের কিছুই জানেন না নাজমুল। বোর্ড প্রেসিডেন্ট পরে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সে তো বলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলবে। ও এখন কী বলছে আমি জানি না! আমার সঙ্গে ওর সর্বশেষ কথা হয়েছে চট্টগ্রামে আফগানিস্তান সিরিজ চলাকালে। সেখানে সে বলেছে খেলবে। আমি এটাই জানি। আমি জানি ও দুবাই যাবে। কিন্তু এরপর ১১ তারিখ ও দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে, এ রকমই কথা হয়েছে।’

কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক সাকিবের এখন আর দেশের প্রতি কমিটমেন্ট আছে কি না, চারদিকে যখন এই প্রশ্ন, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসলে এখন ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই। এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি এলে অবশ্যই চাইব ক্রিকেট খেলতে। সবকিছু নির্ভর করছে আসলে বিসিবি বা আমাদের দুই জায়গা থেকে আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর একটা পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে গেলে আমার জন্য ভাল হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও ভাল হবে। আমি ক্লিয়ার থাকতে চাই। অনেক সময় অনেক মিসকমিউনিকেশন, মিসপারসেপশনের কারণে মিসলিডিং কিছু তথ্য মানুষের কাছে যায়, যেটায় লোকে বিভ্রান্ত হয়। আমি চাই না ওই ব্যাপারগুলো হোক। এজন্যই এটা ক্লিয়ার করে গেলাম।’