“আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেন”


sujon প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
“আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেন”

বিশেষ প্রতিবেদক : আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়েছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করেন। একটা চুক্তিবদ্ধ হন, যে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন। ওখানে সহিংসতা থাকবে না। কেউ কাউকে বাঁধা দেবে না।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইসি এমন মন্তব্য করেন।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে দায়িত্বটা রয়েছে, সেটা যদি শেয়ার না করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন এককভাবে যে কাজ করবে সেখানে সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে। আমাদের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে আবদার করা, বিনয় করা, অনুনয় করা। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমরা সহযোগিতা করব। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহায়তা না করে, পলিটিক্যাল লিডারশিপের যদি ন্যূনতম সমঝোতা না থাকে তাহলে হবে না। আমিতো তাদের মুরুব্বি হতে পারব না। উনারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী, অনেক বেশি অভিজ্ঞ।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে করণীয় না করলে, উনারা নিজেদের প্রশ্ন করবেন নাকি আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবেন? তাহলে আমি সবিনয়ে বলবো, আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনাদের কিছু যদি ব্যর্থতা থাকে তবে সেটাও স্বীকার করুন। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রিস্টোর করুন জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো সংসদ নির্বাচন উপহার দেয়ার চেষ্টায় আমাদের কোন ত্রুটি থাকবে না।

বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বিএনপি যদি এমন ঘোষণা দিয়েও থাকে, আমরা কী তাদের চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাব না? কোনো কথাই শেষ কথাই নয়।

সিইসি বলেন, আমাদের সামর্থ্য-শক্তি অসীম নয়। এটি সব সময় আপেক্ষিক। যার যার অবস্থান থেকে করণীয় অনুসারে কাজ না করলে হবে না। কারও ব্যর্থতা থাকলে স্বীকার করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও একটি দায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচনে তাদের অনেক কর্মী থাকেন। সামর্থের সঙ্গে প্রতিটি দলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার আক্রমনে পালিয়ে না যেয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনটাও একটা যুদ্ধ। কাজেই মাঠ ছেড়ে চলে এলে হবে না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। আমাদের সামর্থ দক্ষতা শক্তি যতটুকু আছে ততটুকু দিয়ে আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ প্রয়াস নিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। মূল্যায়নের দায়িত্ব আপনাদেরই। সময় হলে আপনারাই তা মূল্যায়ন করবেন। আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে প্রার্থনা ও প্রত্যাশা করি সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে।

সিইসি বলেন, নির্বাচনে দলীয় কর্মী থাকে। তারা ভোটারদের নিয়ে যায়। তাদের যে ভূমিকা নেই তা নয়, তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যদি গ্রাউন্ড লেভেলে নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্র্বল হয় তাহলে সমস্যা তৈরি হয়। আমরা সবাইকে নির্বাচনমুখী করতে চাই। তবে আমাদের কোনও ত্রুটি থাকবে না।

রাতের ভোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আপনার কি মনে হয়, আমি রাতে গিয়ে সিল মারবো? আমি সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, অনেকেই তো ছিলেন। এটা আপেক্ষিক বিষয়। অনূকুল পরিবেশের কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন এককভাবে সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বসবো, অবজারভ করবো। আমি গুরুত্ব দেই ভোটকেন্দ্রকে। প্রতিটি দলের স্ব স্ব এজেন্ট আছে তাদের তাড়িয়ে দিলে জানাতে হবে। তাদের সেখানে অবস্থান করতে হবে। আমরা আশাবাদী, আমাদের ওপর আস্থা রাখেন।

সিইসি বলেন, ভোট ভোটের নিয়মে হবে। আগের রাতে হতো কিনা জানি না। আমি অস্ট্রেলিয়ায় বসে দিনে ভোট দিয়েছি। আমি জানি সেটি হয় কিনা। তবে আমরা সেদিকে যেতে চাই না। যদি দেখেন, আমরা সেটি করেছি, আপনারা তখন বলতে পারেন। যদি মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়, তাহলে সেটি ফেরানোর চেষ্টা কি আমরা করবো না? আমাদের আপনারা পর্যবেক্ষণে রাখেন, আমরা তো সেখানে বাঁধা দেবো না। রাজনৈতিক দলগুলো চুক্তিবদ্ধ হতে পারে- তারা কেন্দ্রে কোনও সহিংসতা করবে না, সংঘাত তৈরি করবে না।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো। আমাদের সামর্থ্য-শক্তি অসীম নয়। আন্তরিকভাবে চেষ্টায় ঘাটতি থাকবে না। আমি যতটুকু পারবো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবো। নির্বাচনের সময় অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে সেটি এখনই বলতে পারবো না। আমরা আলোচনা করবো। ইভিএমের ভালো-মন্দ আলোচনা করবো। আমি নিজেও ইভিএম ভালো করে বুঝি না। ব্যালটের ভালো মন্দটাও বসে দেখবো। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আমরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনগুলোও পর্যাপ্ত কিনা সেটি দেখবো। নির্বাচন পরিচালনায় আমরা গুরুত্ব দেবো। আমরা সেনসেটাইজ করবো। পর্যবেক্ষণও করবো।

নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। প্রাথমিক কাজ হিসেবে আজ আইন নিয়ে জ্ঞান আহরণ করেছি। সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। সবাই (অন্য নির্বাচন কমিশনার) অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, সাংবিধানিক শপথের প্রতি অনুগত থেকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।

এসময় চার নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খানও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন (ইসি) সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

এদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ আলী আকবর।