ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র


asif প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ ২ মার্চ , ২০২২
ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারও বলেছেন, ইউক্রেনকে শক্তিশালী করতে সব ধরনের সাহায্য করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ সঙ্ঘাতে জড়াবে না তারা।

আমেরিকা এবং তাদের জোটসঙ্গীরা অন্য নেটো দেশগুলোকে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সবসময় তৎপর থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ মার্চ) কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় বাইডেন বলেন, নেটো দেশগুলোকে রক্ষা করতে আমেরিকা এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনবাসীরা সাহসের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথম দিকে এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পুতিনকে মূল্য চোকাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাহিনী ইউক্রেনের মাটিতে তাদের হয়ে লড়বে না। কিন্তু নেটো দেশগুলোকে রক্ষা করব এবং পুতিনকে আরও পশ্চিমের দিকে এগোনো থেকে রক্ষা করবে। পোল্যান্ড, ইউক্রেন, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়ার মতো নেটো দেশগুলিকে রক্ষা করার স্বার্থে আমেরিকা স্থল, বায়ু এবং নৌসেনা তৈরি রেখেছে।

পুতিন কিয়েভকে চার দিক দিয়ে ঘিরে ফেললেও কোনও দিন ইউক্রেনবাসীর মন জয় করতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাইডেন বলেন, ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে শেষপর্যন্ত জয়ী হলেও এজন্য দীর্ঘমেয়াদে চড়া মূল্য দিতে হবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে হয়তো তিনি জয়ী হবেন, যে উদ্দেশ্যে এই অভিযানের নির্দেশ তিনি দিয়েছেন, তা হয়তো সফল হবে- কিন্তু এজন্য দীর্ঘমেয়াদে চড়া মূল্য দিতে হবে তাকে।

বুধবার সপ্তম দিনে পা দিল রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত। মস্কোর পুরোদস্তুর হামলায় ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত কিয়েভ। ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেনার পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে অনেক দেশ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সঙ্ঘাতে না জড়ালেও সামরিক সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ।

আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে মোট প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা)-এর অস্ত্র পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও আমেরিকার কাছে কিছু ট্যাঙ্ক এবং বিমান ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্রও চেয়ে পাঠিয়েছে ইউক্রেন। এই অস্ত্রগুলোও শীঘ্রই পাঠানো হবে বলেও পেন্টাগন জানিয়েছে। এ ছাড়াও ইউক্রেনের সামনের সারির যোদ্ধাদের জন্য বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও পাঠিয়েছে বাইডেন সরকার।