ইমেজ সংকটে দুরবস্থা কাটছে না বিমা খাতের


asif প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ ১ মার্চ , ২০২২
ইমেজ সংকটে দুরবস্থা কাটছে না বিমা খাতের

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক: প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক খাতের অন্যতম হলো বিমা খাত। ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের বাইরে এ খাতের বড় ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এ খাতের দুরবস্থা কাটছে না। ব্যাপক ইমেজ সংকট আর আস্থাহীনতা মাথায় নিয়েই পথ চলছে বিমা খাত। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নিজেই রয়েছে বিপাকে। সংস্থাটির প্রধানদের সমস্যা সমাধান করতেই বিপুল সময় ব্যয় হয় তাদের।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষ নিরাপত্তার জন্য বিমা পলিসি গ্রহণ করলেও মেয়াদ পূর্তির সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বিমা কোম্পানি থেকে টাকা পান না। উলটো নানা রকম হয়রানি হতে হয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে নানা শর্তের কথা বলা হয়। বিশেষ করে জীবন বিমা এক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

পলিসির টাকা না হওয়ার ঘটনাও অহরহ। আর সাধারণ বিমার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা অনিয়ম। এক্ষেত্রে টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরা কিছুটা অগ্রাধিকার পেলেও সাধারণ বিমা গ্রহীতারা তা পান না। জীবন বিমা ও সাধারণ বিমায় পলিসি করাকে লস প্রজেক্ট হিসেবে মনে করে সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে এ খাতের ইমেজ সংকট চরমে।

দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশনসহ বেসরকারি খাতে ৪৬টি সাধারণ ও ৩৫টি জীবন বিমা কোম্পানি রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮১টি বিমা কোম্পানি এখানে কাজ করলেও বিমার আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

দেশে মাত্র দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষ বিমার আওতায় এসেছে। যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বিমার আওতায় আসা মানুষের শতকরা হার অনেক বেশি। ভারতে এ হার প্রায় ৪ শতাংশের মতো। ভারতে বিমার বিশাল বাজার। সেদেশে ২০২০ সালে ২৮০ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে, বাংলাদেশে যা মাত্র সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের ১০ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ২০৪১ সালে উন্নত দেশের মর্যাদা মিলবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নেও সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। তবে এক্ষেত্রে বিমার অবদান একেবারেই কম। বিমা খাত মূলত অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইস ওয়াটার হাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান ছিল (প্রিমিয়াম আয়) মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০২০ সালে যা কমে শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ হয়েছে। আর বিমা প্রিমিয়ামে মাথাপিছু ব্যয় বছরে ৯ মার্কিন ডলার (৭৭৪ টাকা),যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।

আজ ১ মার্চ জাতীয় বিমা দিবস ২০২২ উদ্যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় বিমা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট বিমা ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বিমা পরিকল্পের উদ্বোধন করবেন।

বিমা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনসহ নানাবিধ আয়োজন থাকবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।পরিপ্রেক্ষিতে ১ মার্চকে জাতীয় বিমা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে জাতীয় বিমা দিবস।