উড়ন্ত আত্নার শেষ আকুতি


sujon প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ ৭ মার্চ , ২০২২
উড়ন্ত আত্নার শেষ আকুতি

উড়ন্ত আত্নার শেষ আকুতি
           -রাজেদুল ইসলাম সোহান

এই মহাবিশ্বের পাপের দায়ভার আমার একার ছিল না;
কখনো কিন্তু যেভাবে উদ্দেশ্যেহীন হয়ে;
সবাই একে অপরকে চাপিয়ে দিচ্ছো-
নিজের পাপ তা সর্বশেষ কার উপর পতিত হবে?
মহাবিশ্বের, মহাকালের অংশ হিসেবে আমি যদিও
অস্বীকার করতে পারি না আমার নিজের পাপকে।

মানুষের এই পাপমুক্ত হবার অভিনয় বলে দেই, তারা এতটাই দোষী;
যে নিজের পাপের বিশালতা দেখে সে নিজেই নড়েচড়ে বসে;
আর তা অস্বীকার করার মতো আবার বিশাল পাপ করে ফেলে।
আমি দেখতে পারব না অনাগত দিনের সেসব হাহাকার,
আমার অন্তর অন্তত তা মানতে পারবে না।

তোমরা শেষ করতে চলেছো এই পৃথিবী অথচ কত
পরিশ্রম দিয়ে বাসযোগ্য করে তুলেছিলে
কত ঘাম,ত্যাগ, সাধনা ছিল এর নেপথ্যে
কিন্তু অস্তিত্বের প্রমাণ পুড়িয়ে ফেলতে
ভাবছই না এক মুহূর্ত এতটা হিংস্র
অচিরেই যে হয়ে উঠছিলে তা
আমার বোধগম্য ছিল না।

তোমরা যেভাবে বেপরোয়া হয়ে
বোমা খেলায় মেতে উঠেছ-
তা আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।
আমি ভাবছি না আমার মৃত্যু নিয়ে;
কারণ পৃথিবীর আলো দেখতে পাওয়ার
মুহুর্তেই আমি নিশ্চিত করেছি কবরের অন্ধকার।

কিন্তু এসব রেষারেষির শেষ কোথায়?
নাকি মুক্তির সকল পথ দূর্বোধ্য করেছি আমরাই,
আমাদের মহৎ কর্ম নামক বিভিন্ন পাপের ছায়ায় আশ্রিত হয়ে,
সেদিন নিজেকে কিছু জীবন নির্ধারক সৈনিকের বুটের নিচে পিষ্ট হতে দেখলাম ,
নির্মম বুটের নিম্নতলের সংস্পর্শে এসে আগ্রাসনের নিকট
অপ্রত্যাশিত ভাবে জীবন বিসর্জন দেওয়া কিছু কোমল প্রাণের সুবাস পেলাম।

কোন অপরাধ, দোষ কিছুই নেই তাদের
তাদের প্রাণ থেকে নির্গত হচ্ছে বিশাল অভিশাপ।
বিশাল দুর্ভিক্ষ পতিত হচ্ছে তোমাদের পৃথিবীর বুকে,
যেখানে তোমাদেরকে খেতে হতে পারে নিজের রক্ত,
নিজের সন্তানকে কেটে খাওয়াতে হতে পারে নিজের মাংস।

মনে করে দেখো, সেসব বীভৎস মূহুর্তকে
কারণ ক্ষমতা নামক যে মরীচিকায় পা দিয়ে তুমি
মেতেছিলে ধ্বংসযজ্ঞে তা কিন্তু চিরস্থায়ী ছিল না।
নিরস্ত্রতার সুযোগে জীবনকে কতটা তুচ্ছ করেছিলে
আমি এই মূহুর্তে চিন্তা করছি তোমার শরীরের শেষ মাংসপিণ্ডের কথা।

আহ! একদল ক্ষুধার্ত ক্ষিপ্ত মানুষ ঝাপিয়ে পড়ছে তোমার নগ্ন শরীরে,
এইসব মানুষের অন্তরে আমি কীসব বিশাল আনন্দের প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি,
এরা এক বিশাল সুখে মেতেছে যেই সুখ আর নিজের এমন অসুখ
তোমরা নিশ্চিত করে আসছিলে বহুকাল ধরে।