একই জমির ৩ দাবিদার, আতঙ্কে হরিপুরের এক সংখ্যালঘু পরিবার


sujon প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
একই জমির ৩ দাবিদার, আতঙ্কে হরিপুরের এক সংখ্যালঘু পরিবার

মো: জাহিদ হাসান মিলু, জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে একটি জমির মালিকানা দাবি করছে তিনটি পক্ষ। এতেকরে সেখানে কিছুদিন পর পরেই সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। তবে এই সংঘাতের বলি হচ্ছে সেখানে বসবাস রত এক সংখ্যালঘু পরিবার।

জেলার হরিপুর উপজেলার টিএন্ডটি সংলগ্ন এই জমির পরিমাণ একুশ শতক। এই জমিতে প্রায় ৫০ বছর থেকে বসবাস করছে জমির দাবিদার জয় কুমারের চার সদস্যের একটি হিন্দু পরিবার। একই সাথে হরিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যক্তি ডামিলের পরিবারও জমিটির মালিকানা দাবি করছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জমির দাবিদার ডালিম ২৫/৩০ জন নিয়ে বসবাসকারী পরিবারের বাড়ি ভাঙচুর ও মারধোর করে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। ঘটনাকে কেন্দ্রকরে বৃহস্পতিবার রাতেই জয় কুমারের মা সুমিত্রা রাণী বাদি হয়ে হরিপুর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

হামলার স্বীকার পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুমিত্রা রানী তার পরিবার নিয়ে র্দীঘ প্রায় ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন । ২০০৮ সালের ৩১ আগষ্ট তার সন্তান জয় কুমার সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত পায়। কিন্তু কয়দিন পর পরেই অপর দুই পক্ষ তাদের মারধোর করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। প্রায় ২০ দিন আগে একবার স্থানীয় ডালিম তাদের বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হলে আবার নতুন করে ঘরতুলে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এবার সেই ডালিমের নেতৃত্বেই স্থানীয় খোকন, সেলিম, অন্তরসহ প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধ হয়ে সুমিত্রা রাণীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাড়িতে থাকা মন্দীরের প্রতিমা, আসবাবপত্র, দেয়াল ভাংচুর করে ও মারধোর করে।

ওই পরিবারে শিশু শিক্ষার্থী তিশা রাণী বলেন, আমি স্কুলে যাওয়ার সময় তারা আমাকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়। এজন্য স্কুলে যেতে ভয় পাই।

ভুক্তভোগী সুচিত্রা রাণী বলেন, আমার বাপদাদারা এই জায়গায় বসবাস করে আসছেন। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তারা আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন আমাদের এখান থেকে তাড়ানোর জন্য এই সব কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে ওই মহলটি। এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করে একাধিক অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ বলে কোন সমাধান পাচ্ছি না ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ডালিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।

হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নগেন কুমার পাল ঢাকা মেইলকে জানান, ওই পরিবারটি পাকিস্তান আমল থেকে ওই জায়গায় বসবাস করে আসছেন। এভাবে পরিবারটির বসতবাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাংচুরের বিষয়টি খুবই দু:খজনক। এব্যাপারে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এই বিষয়ে হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম জানান, ওই জমির
মালিকানা তিনটি পক্ষ দাবি করে আসছে। হরিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকার পক্ষে জয় কুমার এবং ডামিলের পরিবার। যেহেতু ওই পরিবারটিকে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। সে জন্য আমরা পরিবারটির পক্ষে আছি এবং প্রয়োজনী সহযোগিতা করবো।

এ বিষয়ে হরিপুর থানার তদন্ত অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষই অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।