এক সেকেন্ডের জন্যও তাকে ভুলিনি: ওসি সালাহউদ্দিনের স্ত্রী


resma প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ ১ জুলাই , ২০২২
এক সেকেন্ডের জন্যও তাকে ভুলিনি: ওসি সালাহউদ্দিনের স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: তার মৃত্যুর পর থেকে এক সেকেন্ডের জন্য আমি ভুলে যাইনি। প্রতিটি মুহূর্তে আমার স্বামীকে মিস করি।

আমার স্বামী দেশ ও দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন- এই একটা বিষয় ভেবেই মনে শান্তি পাই। এছাড়া তিনি সব সময় আমার মনের ভেতরেই রয়েছেন।

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলায় নিহত তৎকালীন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিনের স্ত্রী রেমকিন।

শুক্রবার (০১ জুলাই) গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে গুলশান পুরাতন থানার সামনে স্থাপিত দীপ্ত শপথ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সঙ্গে তার ছেলে-মেয়েও উপস্থিত ছিল।

হলি আর্টিজান হামলায় তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন নিহত হন। তাদের স্মরণে গুলশান মডলে থানার সামনে দীপ্ত শপথ নামে এই দুই অফিসারের ভাস্কর্য বানানো হয়। প্রতি বছর হলি আর্টিজানের হামলার দিনে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় তাদের স্মরণে।

নিহত ওসি মো. সালাহউদ্দিনের স্ত্রী রেমকিন বলেন, দেশের জন্য আমার স্বামী জীবন উৎসর্গের পর বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা, জঙ্গিদের অপতৎপরতায় দেশের মানুষের ক্ষতি হচ্ছিল। সেই জায়গাগুলো পুলিশ ভাইয়েরা, স্যারেরা হ্যান্ডেল করেছেন। জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানের পর দেশ এখন জঙ্গিমুক্ত বলা যায়। আপনারাও দেখেছেন, এমন (হামলা) আর কোনো জায়গায় শুনতে পাইনি। তারপরও আমাদের দেশের পুলিশ ভাইয়েরা কাজ করছেন।

১ জুলাই ওসি মো. সালাহউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী। তাই বলে আমরা তাকে স্মরণ করছি, তা কিন্তু নয়। যেদিন তিনি আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছেন, সেই মুহূর্ত থেকে একই রকমভাবে তাকে (সালাউদ্দিন) মিস করি। কখনো একদিন, এক ঘণ্টা কিংবা এক সেকেন্ডের জন্যেও তাকে আমরা ভুলতে পারি না। দিন-রাত আমাদের চিন্তার মধ্যে একইভাবে আমার স্বামী মনের ভেতরে জায়গা করে আছেন।

আমরা জঙ্গি মুক্ত একটি সুন্দর দেশ চাই। এটা দেশের মানুষও চাইবে বলে আমি মনে করি- যোগ করেন তিনি।

আমার স্বামীর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমার দুই বাচ্চার জন্য দোয়া করবেন। তারা যেন সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ।

সেদিন জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ২০ দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। সেই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাও নিহত হন।