এখন আর তেলে ভাসে না গৃহিনীর বাহারী খাবার


sujon প্রকাশিত: ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ ৯ মার্চ , ২০২২
এখন আর তেলে ভাসে না গৃহিনীর বাহারী খাবার

এ.এইচ কামরুল, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় রমজানের আগেই সেঞ্চুরী ছুঁই ছুঁই কাঁচা মরিচের দাম। বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজও। সব মিলিয়ে নিত্যপন্যের বাজারে আগুন। তেলের কথা তো বাদই দিলাম। এখন আর আগের মতো তেলে ভাসে না গৃহিনীর বাহারী খাবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর সেঞ্চুরীর দ্বারপ্রান্তে কাঁচা মরিচের দাম। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮১ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশী। প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮১ থেকে ১৮৩ টাকা দামে। কোথাও কোথাও আবার এর চেয়ে বেশী। আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি, দেশী রসুনের দাম ৫০ আর চায়না রসুন ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং লালশাকের আটি ১২ থেকে ১২ টাকা। অন্যান্য কাঁচা তরকারীর দামও নেই হাতের নাগালে।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার নীচের বাজারের খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, পাইকারী বাজার থেকে যে সমস্ত কাঁচা তরকারি কিনে নিয়ে আসি তা একদিনে বিক্রি হয় না। তার মধ্যে কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে ফেলে দিতে হয়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা লাভ না করলে ক্ষতি পুরণ করা সম্ভব হয় না। কোন কোন কাঁচা তরকারি বেশী নষ্ট হওয়াতে ওই তরকারি বেশী দামে বিক্রি করতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের মুদি দোকানদার লাবলু বলেন, সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এখন আর আগের মতো তেল বিক্রি হয়না। বর্তমানে সয়াবিন তেল পাইকারী বাজার থেকে ১৮০ থেকে ১৮১ টাকা কেজি কিনে ১৮২ থেকে ১৮৩ টাকা দামে খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কেজি কোন কোন সময় ১০০ কেজি খুচরা সয়াবিন তেল বিক্রি করেছি। দাম বাড়ায় এখন গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে।

চায়ের দোকানদার আসাদুল বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও আমাদের আগের দামে চা বিক্রি করতে হচ্ছে। বেশী দাম চাইলে খরিদ্দার আসে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও আমার আয় আগের মতোই আছে। এখন আর মাছ-মাংশও ঠিকমতো খেতে পারি না।

আলম নামের এক ক্রেতা হলেন, আগে প্রায় ২/১ দিন পরপরাই বাড়ীতে কোন না কোন বাড়তি রকমারী খাবার তৈরী করা হতো। তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তেলে রকমারী খাবারে ভাসে না। রশিকতা করে তিনি বলেন, ভাবছি প্রতিদিন বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় তেলের বোতল সাথে নিয়ে বের হবো। যাতে গিন্নি বেশী তেল খরচ করতে না পারে।

চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারের নীচের বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমদানী কম থাকার কারণে বর্তমানে প্রতিটা কাঁচা তরিতরকারির দাম বেশী।