এবার পদত্যাগের হুমকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর


rupali প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ ৩১ আগস্ট , ২০২২
এবার পদত্যাগের হুমকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকে দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজ করছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। প্রায় ১০ মাস আগে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দিন দু’য়েক আগে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনীতিক এবং শিয়া নেতা মোকতাদা আল-সদর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার জেরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় প্রাণ হারান প্রায় দুই ডজন মানুষ। এই পরিস্থিতিতে এবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন খোদ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি। বুধবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোকতাদা আল-সদর তার রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তার সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন। এতে আহত হন আরও বহু মানুষ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সদর টুইটারে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তার সমর্থকেরা ইরাকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

সোমবারের সেই ঘটনার পর মঙ্গলবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি বলেন, দেশের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তিনি ‘তার পদ ত্যাগ করবেন’। সহিংসতার সময় বিক্ষোভকারীরা সরকারি সদর দপ্তরে প্রবেশের পর আল-কাদিমি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বিবিসি বলছে, সদর ইরাকের রাজনীতিতে খুবই জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনীতিক। দেশটিতে তার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে এবং সরকার গঠন নিয়ে দেশটিতে যে দীর্ঘ সংকট চলে আসছে সেটির কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনে সদরের রাজনৈতিক মিত্ররা বেশিরভাগ আসনে জয়ী হয়। কিন্তু সরকার গঠন নিয়ে শিয়া মতাবলম্বী অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তার পক্ষের পার্লামেন্ট সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

এছাড়া রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে সম্প্রতি ইরাকের পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর ঢুকে তাণ্ডব চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে মোকতাদা সদর সোমবার এক বিবৃতিতে রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। এমনকি নিজের সকল রাজনৈতিক কার্যালয় ও সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি।

অবশ্য নয় বছর আগেও একবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সদর। তবে পরে আবারও তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসেন। তবে সদরের সর্বশেষ এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে তার ২৩ সমর্থক প্রাণ হারান।