কাজের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও নিরাপদ নয়


sujon প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ ৮ মার্চ , ২০২২
কাজের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও নিরাপদ নয়

আব্দুর রব: দেশের অর্ধেক মানুষের মেধা ও শ্রম অলস পড়ে থাকলে বা অব্যবহৃত থাকলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারী উদ্যোক্তার প্রয়োজন। নারীরা আমাদের সমাজে বরাবরই অবহেলিত।

নারীর উচ্চতর ডিগ্রি নিলেও অধিকাংশের ঠিকানা হয় রান্নাঘর। পুরুষপ্রধান এ সমাজে ঘর থেকে বের হতে হলে বাবা, ভাই কিংবা স্বামীর অনুমতি নিতে হবে, তারপরও আছে কত বাধা-নিষেধ।

ডিজিটাল যুগে নারীরা এসব প্রতিবন্ধকতা এখন জয় করতে শিখেছেন। নারীরা এখন পড়াশোনা করছেন, চাকরি করছেন এমনকি স্বাধীন উদ্যোক্তাও হচ্ছেন। আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে, যেসব নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করছেন, তারা ভালো করছেন।

প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধ, কুসংস্কার, ধর্ম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাসহ নানা কারণে নারীরা লেখাপড়া বা কাজকর্ম করতে পারছেন না। আমাদের সমাজে যে রক্ষণশীলতা বিরাজ করছে, তা রাতারাতি পরিবর্তনও করা যাবে না।

আবার কর্মপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত নারীদের অনেকে তাদের পুরুষ সহকর্মীদের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যে কারণে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা কর্মপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে ভয় পান।

প্রচলিত সামাজে নারী পুরুষের যে বৈষম্যের বিষয়ে জুটমার্ট এন্ড ক্র্যাফট ইন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা সুলতানা ইতিহাস প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের পরিবারে ভাই-বোনের সমান অধিকার। বলতে গেলে আমার মা ভাইকেই কম দিত আমাকে বেশি দিত। ভাই বোন আমরা এভাবেই বেড়ে উঠেছি। আমি স্কুলজীবন থেকে বন্ধুদের সাথে বড় হয়েছি। তবে আমাদের সমাজে এই বৈষম্য এখোনো রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

নারীর কর্মপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা। আপনার কি কোন সমস্য হয়?

খালেদা সুলতানা: কাজের ক্ষেত্রে আমার একা যাওয়াটা নিরাপদ মনে করি না। দেখেন ছেলে হলে কিন্তু এটা হত না, মেয়ে হলে আমাকে এটা ভাবতে হত না। কাজের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কাজ ধর্জ কিন্তু বেশি। এখন কিন্তু মেয়েরা ঘরে বসে থাকে না। আমাদের শহরের মেয়েদের চেয়ে গ্রামের মেয়েরা এখন বেশি কাজ করে। কৃষিকাজ ও অনান্য কাজেও কিন্তু মেয়েরাও এগিয়ে আছে। আমি ছেল হই আর মেয়ে হই কেন কাজ করবো না। আপনি যদি নিষ্ঠাবান নাগরিক হন তাহলে বসে থাকলে চলবে না। পরিবারে একজন মা তার সন্তানকে যখন সুনাগরিক হিসাবে গড়ে সেটাও কিন্তু একটা বড় কাজ। যারা ঘরের কাজ করে বাইরের কাজ করে তাদের আমি স্যালুট জানাই।

নতুন নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

খালেদা সুলতানা: বাংলাদেশের মোট নারী জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ কর্ম প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত। কোভিডের সময় উদ্যোগতার অধিক হারে বেড়ে গেছে। কোভিডের ভয়াবহ সংক্রমণে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অনেকের বন্ধ হয়ে গেছে ব্যবসাও। যার ফলে পরিবারের ওপর নেমে আসে অর্থনৈতিক সংকট। তবে কোভিড কালিন সময়েও নারীকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রত্যয়ও দেখেছি। টিকে থাকার লড়াইয়ে সফলতার সঙ্গেই অনেক নারী হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তা। নতুন উদ্যোক্তা কিন্তু খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে তাদের পণ্য মানুষের কাছে খুব সহজেই বিক্রি করতে পারে। এজেন্ট ব্যাংকিং এর কারণে ই-কমার্স ব্যবসা সহজ হয়েছে। এ কারণে গ্রাম-গঞ্জেও ব্যবসা করাটা খুব সহজ হয়েছে। আমি বলবো যার যে যোগ্যতা আছে সেটা নিয়ে কাজ করুক, পাশাপাশি ভালো লাগাটি থাকতে হবে।