কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে প্রয়োজন আইনের সংশোধন


sujon প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ ৪ মার্চ , ২০২২
কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে প্রয়োজন আইনের সংশোধন

শেখ সেলিম : চরম দুঃসময় যাচ্ছে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে। সর্ব এই আতংক বিরাজ করছে চলমান জনজীবনে। প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ, নেশার ছড়াছড়ি, মোবাইল ও ইন্টারনেটে নীলছবি কিশোরদের বেপরোয়া করে তুলছে। অন্যদিকে করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশু কিশোরদের নৈতিক চরিত্রের মারাত্মক অবক্ষয় হয়েছে।

বিপদগামী শিশু কিশোররা হর-হামেশায় হত্যা, খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, কোপাকুপি, ভাংচুর ছিনতাইসহ কথায় কথায় মারামারী এখন নিত্য ঘটনার জীবন সঙ্গী। এতে অতিষ্ঠ হচ্ছে সমাজ। ভেঙ্গে পড়েছে পারিবারিক কাঠামো। পরিবারের কর্তা বা অভিভাবক শ্রেণী প্রতিনিয়ত হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। সবাই যেন এক অজানা আতংকের মধ্যে পড়েছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে সমাজের কোন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছে না।

বলা যায়, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি অনেকটাই অনিশ্চিত। কিশোর গ্যাংয়ের নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ দায়িত্বশীল প্রশাসন তৎপর। কিন্তু কিছুতেই সে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রকাশ্যে হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ নানানতর অপকর্মকারী কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। প্রকাশ্য খুন করার পরও এসব কিশোর খুনীদের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালত ব্যবস্থা নিতে অসহয়ত্ববোঁধ করছেন বলে অনেকের ধারণা।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক শিশু আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু কিশোরদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলা হয়। যে কারণে আইনের দণ্ডের যে বিধান বয়সের কারণে তার প্রয়োগটি করা সম্ভব নই বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু পৃথিবীর সকল দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু এক রকম না। শীতপ্রধান দেশে ২০-২৫ বয়সীদের মধ্যে স্কেস পাওয়ার আসে, সেখানে আমাদের দেশে শিশুদের ১১-১২ বছরেই স্কেস পাওয়ার পরিলক্ষিত হয়। যে কারণে এ বয়সে রোমাঞ্চ আর রোমান্টিক কর্মকাণ্ড করতে বেশ আগ্রহী করে তোলে। রোমাঞ্চ আর রোমান্টিকতায় বিভোর থেকে তারা যেকোন সন্ত্রাসী বা অসামাজিক কর্মকাণ্ড করতে সর্বদাই উৎসাহী থাকে। মনে হয়, আইন বা সামাজিক রীতি নীতি ভঙ্গ করায় এদের কাজ। সুস্থ্য স্বাভাবিক মননশীলতা বা নৈতিকতা এদের কাছে সেকেলে একটি শব্দ।

ফলে, এদের দমন করতে আইনের শাসন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার আইনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশর অবস্থান নিশ্চিত করেছ সরকার। যার ফলে ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর কিশোরীরা প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী বা সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ একরকম অসহায়ত্বের শিরোনামে আবদ্ধ।

এ বিষয়ে বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজ ক্রমেই আতংকের মধ্যে রয়েছে। তারা বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলাবায়ুর বাস্তবতায় শিশু-কিশোরদের বয়স কমিয়ে একটি সময় উপযোগী আইন তৈরীর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের কোন কোন মহল বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিমত দিচ্ছেন। বাংলাদেশে বর্তমান কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখে দেশের সর্বত্র আইন শৃংখলা ও শান্তি পরিবেশ অব্যাহত রাখতে, বিশেষত রাষ্ট্রীয় কাঠামো স্বাভাবিক অবস্থানে আনতে প্রয়োজন চলমান আইনের যুগপোযোগী সংশোধন এবং তার দ্রুত বাস্তবায়ন।