কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) এর এক দশকে পদার্পণ


resma প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ ৬ ডিসেম্বর , ২০২২
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) এর এক দশকে পদার্পণ

কুবি প্রতিনিধি: “সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল” এই মূলমন্ত্র নিয়ে ২০১৩ সালের ৬-ই ডিসেম্বর কুবিসাসের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু। বিগত ৯ বছরের পথটা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না । নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে দিয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর আস্থা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির শুরুর ইতিহাস বেশ করুণ।

সংগঠনটির শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় যেমন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কালো থাবা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিমুখতা আচরণ এর মাঝেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় কুবিসাস।

কুবিসাসের সদস্যবৃন্দ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহে সর্বদা সোচ্চার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সবার আগে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় সত্য সংবাদ তুলে ধরার ফলে সাংবাদিকরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তাদের মূলমন্ত্র থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।যার ফলে সাংবাদিকতায় রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনের চাপ। একইসঙ্গে রয়েছে ছাত্র সংগঠনের অসহিষ্ণু, বেপরোয়া আচরণ। অবস্থানগত কারণে অনেক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কুবিসাসের সাংবাদিকরা কাজ করে থাকে। একজন ক্যাম্পাস প্রতিনিধি যে ক্যাম্পাসের ভালো-মন্দ নিয়ে তারা সংবাদ প্রকাশ করেন, সে ক্যাম্পাসেই তাদের থাকতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অপরাধ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সমস্ত বিষয়ের কারণে মাঝেমধ্যে বিপন্ন হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তারা চায় তাদের দুর্বলতা, ত্রুটি, অদক্ষতা আড়াল করতে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন চায় তাদের চাঁদাবাজি, টেণ্ডারবাজি, অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া দেওয়ার মতো ঘটনা দেশের মানুষের কাছে আড়ালে থাকুক। সব মিলিয়ে নানারকম ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি, নির্যাতন, হামলা উপেক্ষা করে কুবিসাসের সদস্যবৃন্দ সাংবাদিকতা চালিয়ে যায়। এছাড়াও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপ্রকাশিত হয়রানি, ছাত্রত্ব হারানোর ভয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক সদস্য আহসান হাবিব বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) আমার সন্তানেরই মতন। সন্তানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিতে পিতা যেমন খুশি হন, সামগ্রিকভাবে কুবিসাস-এর সমৃদ্ধিতেও। কুবিসাস ও এর সদস্যরা সত্য ও ন্যায়ের পথে পাহাড়সম দৃঢ়তায় অবিচল থাকবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন, সম্প্রতি আমরা আমাদের কুবিসাস পরিবারের অন্যতম সারথি সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাজমুল সবুজকে হারিয়েছি।এখনও এর শোক কোনভাবেই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আয়োজন নাজমুল সবুজের শ্রদ্ধায় নিবেদিত হোক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের কাছে কুবিসাস একটা আবেগ ও নিরালস পরিশ্রমের একটা সংগঠন। নানান বাধাবিপত্তি স্বত্তেও অতীতেও যেমন লক্ষ্যে অবিচল ছিল আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে। নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নবীন সাংবাদিক হিসেবে যারা কাজ করছ, তারা তাদের সিনিয়রদের পরামর্শ, মেধা ও দক্ষতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

সাংবাদিক সমিতির বর্তমান সভাপতি শাহাদাত বিপ্লব বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্বনামধন্য সংগঠন আমাদের এই কুবিসাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৯ বছর ধরে আমরা সত্য ও ন্যয়ের পথে কাজ করে যাচ্ছি। অন্যায় অসঙ্গতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দিক তুলে ধরতে আমরা সদা সোচ্চার। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিকতার উন্নয়নের জন্য আমরা অতীতেও নিরলস কাজ করেছি, বর্তমানেও করছি, আশা করি তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কুবিসাসের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুরাদ বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় করিয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ সংগঠনটির সদস্যরা সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লেখনীর মাধ্যমে অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন।অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কুবিসাসের সদস্যবৃন্দ সর্বদা কাজ করে যাবে এ ব্যক্ত করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল সদস্যের জানায় আমার শুভেচ্ছা। আশা করবো যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তথ্যবহুল ও নৈতিকতার সহিত সাংবাদিকরা সংবাদ রচনা করবে।

সবসময় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকুক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। জয়তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।