ছাত্রলীগের তুলে দেওয়া অনাবাসিক ছাত্রকে বের করে দিলো প্রাধ্যক্ষ


sraboni প্রকাশিত: ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ ১৭ জুন , ২০২২
ছাত্রলীগের তুলে দেওয়া অনাবাসিক ছাত্রকে বের করে দিলো প্রাধ্যক্ষ

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী হলে এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে নামিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে উঠিয়েছে হল প্রাধ্যক্ষ। এ কারণে হল গেটে তালা দিয়েছে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম ওসমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুর আড়াইটার সময় হলেরপ্রধান ফটকে তালা লাগান তিনি।পরে ঐ নেতাকে হল থেকে প্রাধ্যক্ষ নামিয়ে দিলে প্রাধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ।অভিযুক্ত শামীম ওসমান ও হলের এক নম্বর সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শাকিল একই সঙ্গে রাজনীতি করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, হলের ৪৩০ নম্বর রুমে দুইজন আবাসিক শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সেখানে বেড শেয়ার করে থাকতেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল। পরবর্তীতে সেখানে হলের সহসভাপতি শাকিল ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফলিত গনিত বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী সফিউল্লাহকেও ওই রুমে উঠান। তবে আজ দুপুরে অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসন নামিয়ে দিলে ছাত্রলীগের নেতা হলে তালা লাগিয়ে দেন।

আরো জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ও ছাত্রলীগের হলের সাধারণ সম্পাদকসহ হল প্রশাসন বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শামীমের কাছে ঘটনার লিখিত বর্ণনা চায় হল প্রাধ্যক্ষ। তবে লিখিত না দিয়েই চলে যায় শামীম উসমান। এতে হলের অবৈধ শিক্ষার্থী হওয়ায় হলের ২২০ নম্বর কক্ষ থাকা শামীম উসমানের বিছানাপত্র হলের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নামিয়ে দেন প্রাধ্যক্ষ। পরে নামিয়ে দেওয়া বিছানাপত্রগুলো সেই রুমের অন্যজনের দাবি করে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয় হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপরে প্রাধ্যক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করে অমীমাংসিতভাবে চলে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রুমে উঠা সত্ত্বেও আজকে হল প্রশাসন তাকে রুম থেকে নামিয়ে দেয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, শামীমের বের নয়, হল প্রাধ্যক্ষ আমাকে বের করতে চাইছে।এ ঘটনায় জানতে চাইলে হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা ছাত্রলীগের হল শাখার প্রেসিডেন্ট-সেক্রেরারি জানে না। তাই তালা কে বা কারা লাগিয়েছে জানা নাই। যে লাগিয়েছে সে নিজ স্বার্থে লাগিয়ে থাকতে পারে।

হল প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শাকিল এবং শামীমের আচরণে আমরা বিব্রত। আমরা এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। আমরা যে দুইটা বেড নামিয়ে দিয়েছে সেগুলো মিমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।তিনি আরও জানান, গত রমজান মাসে শামীম ওসমান হলের ডাইনিংয়ের প্লেট ভাংচুর করে।