জাতিসংঘের প্রস্তাবে বাংলাদেশের ভোট না দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি


sraboni প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ ৪ মার্চ , ২০২২
জাতিসংঘের প্রস্তাবে বাংলাদেশের ভোট না দেওয়া সংবিধান পরিপন্থি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবে বাংলাদেশের ভোট না দেওয়ার ঘটনাকে সংবিধান ঘোষিত গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের নীতিমালা পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি মনে করে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত জনমত বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার বিষয়ক মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশবাসীর জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এজন্যই জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকেছে।

শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।তিনি দাবি করেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা এবং মানবাধিকার লংঘনে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সরকার একইভাবে দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকরী অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলছে।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে দুদেশের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।ইউক্রেন-রাশিয়ার সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থায় ১০ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া এবং শত শত ইউক্রেনবাসীর সঙ্গে এক বাংলাদেশি নাবিকের নিহত হওয়ার ঘটনায়ও শোক জানিয়েছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ আক্রমণকে ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লংঘন বলে মনে করে বিএনপি। এ ধরনের আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী তৎপরতা জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অপরাধ। এরইমধ্যে মাত্র পাঁচটি দেশ বাদে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে এ আক্রমণের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাঁচ দেশের বিরোধিতা ও ৩৫ দেশের পক্ষাবলম্বনে বিরত থাকা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশ তথা বিশ্ববাসী এ রুশ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইউক্রেনসহ যে কোনো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মৌলিক অধিকারকে শ্রদ্ধা করে এবং তার সীমা লংঘনের বিরোধিতা করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন জবাবদিহিতাহীন কর্তৃত্ববাদী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনমতকে তোয়াক্কা করে না। বিএনপি সব সময়ই সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে প্রবাহমান বিশ্ব জনমতের পক্ষে।

তিনি বলেন, বিএনপি জাতিসংঘের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শক্তিকে সুদৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। যুদ্ধরত দুদেশের (ইউক্রেন-রাশিয়া) চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি বিএনপি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন ইস্যুতে গত বুধবার (২ মার্চ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনে পাস হওয়া নিন্দা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত ছিল ইরান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ব্রাজিল, আলজেরিয়া, বলিভিয়া, চীন, কিউবা, ইরাক ও কাজাখস্তানসহ ৩৫ দেশ। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পরিষদের ওই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দেয় ১৪১টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, বেলারুশ, ইরিত্রিয়া, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়া।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।