জাবির উন্নয়নের মাস্টার প্লান ঘিরে আবারও আন্দোলন


resma প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ ১৬ জুন , ২০২২
জাবির উন্নয়নের মাস্টার প্লান ঘিরে আবারও আন্দোলন

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) উন্নয়নের মাস্টার প্লান রিভিশনসহ পাঁচ দফা দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর।

বৃহস্পতিবার(১৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নতুন কলা ভবন, পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘুরে নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জাবির ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলির সসঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র আন্দোলনের সুদীপ্ত দে বলেন, “আপনারা হয়তো পেপার পত্রিকায় দেখেছেন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন যখন বলা হয়েছিলো এটি কোন মাস্টার প্লান’ই নয় তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন পরিকল্পিত উন্নয়ন হয় তার জন্য আমরা একটি পূর্নাঙ্গ মাস্টার প্লানের দাবিতে আন্দোলন করি।

যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন তখন আমরা উপলব্ধি করি ১৮ কোটি মেহনতী মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কখনো দুর্নীতি গ্রস্ত হতে পারে না। আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেই তৎকালীন ভিসি ফারজানা ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না।

৫ নভেম্বর ২০১৯, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত তৃতীয় শ্রেনীর, চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা তারা এসে আমাদের গায়ে আমাদের শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেন। নতুন উপাচার্যকে এই বার্তা দিতে চাই এই জাহাঙ্গীরনগর আরেকটি ফারজানা ইসলাম চায় না, জাহাঙ্গীরনগর আর দুর্নীতির কালিমা লেপন করতে চায় না।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, আমরা বার বার মাননীয় উপাচার্যকে বলেছিলাম সকল অংশ জনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন মাস্টারপ্লান প্রনয়ণ করুন। লাইব্রেরি ভাঙ্গবেন না এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বাজে সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি আরোও বলেন, মাস্টারপ্লান উদ্ভোধনের একদিন আগে আমাদের বিশেষ মতবিনিময় সভায় ডাকা হলো। সে মতামতের যদি কোন মূল্য না থাকে তাহলে আমরা ধরে নিব এইগুলো আপনাদের লোকদেখানো নাটক। ১৩৫ কোটি টাকা ঢালবেন বলে দুইটা প্রশাসনিক ভবনের একটি গায়েব করে দিলেন। এই টাকা জনগনের রক্ত পানি করা টাকা। সেই টাকা অপ্রয়োজনীয় একটি বিল্ডিং নির্মাণে খরচ করবেন আর আমরা চুপিচুপি দেখব, জাহাঙ্গীরনগরের ইতিহাস সেটা বলে না। তিনবছর আগে দেখেছেন আজকে থেকে আবার দেখবেন। যদি মাস্টারপ্লান ছাড়া এই ১৪৪৫ কোটি টাকার কাজ আগায়, যদি লাইব্রেরি ভবন ভেঙে আরো একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, যদি রাতের আধারে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাযে হাত দেন তাহলে এর পরিনতি ভালো হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অস্বচ্ছতার অভিযোগে করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে লাগাতার আন্দোলন হয়েছিলো।