ঝিনাইদহে বাড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদ 


resma প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ ৪ মার্চ , ২০২২
ঝিনাইদহে বাড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদ 

শেখ শফিউল আলম লুলু,ঝিনাইদহ:  ঝিনাইদহে তিন বছরে প্রায় ১০ হাজারের মত বিবাহ বিচ্ছেদের বা তালাকের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহে প্রতি মাসে গড়ে বিবাহ হয় ৬৬০ আর বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক হয় ২৭১টি। গড়ে প্রতিদিন বিবাহ হয় ২২টি আর বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক হয় ৯টি।

গত তিন বছরে ছেলে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ৮৯৪টি আর মেয়ে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ৪৩২৭টি। তথ্যানুযায়ী তালাকের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জেলায় তালাক ও বিচ্ছেদের আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী স্বামীকে ও স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছেন। বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকাজনক এই ঘটনা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে দুই যুগের সংসার ঠুনকো অজুহাতে নিমিষেই ভেঙ্গে যাচ্ছে।

তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিবাহ বিচ্ছেদে পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছে। এদিকে বিয়ের ঘটনা বৃদ্ধি না পেলেও তালাকের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা রেজিষ্টারের অফিসের তথ্যনুযায়ী ২০২১ সালে জেলায় বিবাহ হয় ৯ হাজার ৪৬টি। ছেলে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ৩৮৪টি, মেয়ে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ১৮৫৪টি এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে তালাকের সংখ্যা ছিল ১৭৪৬টি। হিসাব অনুযায়ী ৯ হাজার ৪৬টি বিবাহের বিপরীতে পর তালাক হয় ৩৯৮৪টি জনের। অথ্যাৎ ২০২১ সালে তালাকের হার ৪৪%।

২০২০ সালে জেলায় বিবাহ হয় ৬ হাজার ৮৯৫টি। ছেলে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ২৩২টি, মেয়ে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ১১৪৩টি এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে তালাকের সংখ্যা ছিল ১৩৫৫। হিসাব অনুযায়ী ৬ হাজার ৮৯৫টি বিবাহের বিপরীতে তালাক হয় ২৭৩০টি। অথ্যাৎ ২০২০ সালে তালাকের হার ৩৯.৬০%। ২০১৯ সালে জেলায় বিবাহ হয় ৭ হাজার ৮৪২টি। ছেলে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ২৭৮টি, মেয়ে কর্তৃক তালাকের সংখ্যা ছিল ১৩৩০টি এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে তালাকের সংখ্যা ছিল ১৪৫৬টি। হিসাব অনুযায়ী ৭ হাজার ৮৪২টি বিবাহের বিপরীতে তালাক হয় ৩০৬৪টি।

অর্থাৎ ২০১৯ সালে তালাকের হার ৩৯%। ২০১৯ সালে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ২৩ হাজার ৭৮৩টি বিবাহের বিপরীতে তালাক হয় ৯ হাজার ৭৭৮টি। অথ্যাৎ তিন বছরে তালাকের হার ৪১%। তালাক নোটিশ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদে ঘুরে ফিরে একই কারণ দেখিয়েছেন আবেদনকারীরা। প্রাপ্ত আবেদনপত্রে দেখা যায় এগুলো একটি ছক আকারে তৈরি। যা আইনজীবীদের কাছে আগে থেকেই তৈরি থাকে। আবেদনগুলোতে তালাকের কারণ হিসেবে বেশির ভাগই ছিল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়া। স্ত্রীর করা আবেদনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভরণ-পোষণ না দেয়া, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া,মাদকাসক্ত, স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, যৌতুক, মানসিক পীড়ন, পরকীয়া, আর্থিক সমস্যা।

অন্যদিকে স্বামীরাও তাদের নোটিশে উল্লেখ করেছেন, পরকীয়া, বেপরোয়া জীবনযাপন, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, অবাধ্য হওয়া, টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে অবাধ বিচরণ করা, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী না চলাসহ বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। পৌরসভার কর্মকর্তারা বলছেন তালাকের যেসব আবেদন জমা পড়ে, তার সবগুলো একই রকম। মাঝে-মধ্যে দু’-একটি কারণ এদিক ওদিক হয়। তাছাড়া জেলা নোটারী পাবলিক কার্যালয়েও অগনিত বিবাহ ,তালাকের ঘটনা ঘটছে বলে জানাগেছে।