ঝিনাইদহে মাছের সাথে মুক্তা চাষ


sujon প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
ঝিনাইদহে মাছের সাথে মুক্তা চাষ

শেখ শফিউল আলম লুলু, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাছের সাথে মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ড. নজরুল ইসলাম। স্বাদু পানিতে দেশীয় প্রজাতির ঝিনুকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের মুক্তা চাষ করছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা। সাথী ফসল হিসেবে মাছের সাথে মুক্তা চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি বেকারত্ব যেমন দূর হবে তেমনি সমৃদ্ধ হবে জাতীয় অর্থনীতি।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, মুক্তা চাষ একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হতে পারে। দেশীয় প্রজাতির ঝিনুক সংরক্ষণ ও মুক্তা চাষ প্রকল্পের আওতায় তিনি তাঁর “রাইয়ান পার্ল হারবার” প্রকল্পে দুই হাজার ঝিনুকে মুক্তা চাষ শুরু করেন। যা থেকে এ বছর ৮-১০ লক্ষ টাকার মুক্তা বিক্রয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এলাকার অসংখ্য বেকারের মনে আশার সঞ্চার ঘটেছে এবং মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মাছের সাথে মুক্তা চাষে ঝিনুকের জন্য বাড়তি কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ৭ থেকে ৮ মাসেই ঝিনুকের মাঝে মুক্তা উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশে ইমেজ বা ডিজাইন মুক্তা একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হতে পারে। ইমেজের মাধ্যমে যেকোন ডিজাইনের আকর্ষণীয় মুক্তা তৈরী করা সম্ভব। যা দিয়ে কানের দুল, লকেট, আংটি, ব্যাচ, বাটনসহ কাঙ্ধিসঢ়; ক্ষত অলংকার তৈরি করা যাবে। রাইয়ান পার্ল হারবারের মুক্তার গুণগত মান এ-গ্রেডের হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে দেশের বেশকিছু নামকরা প্রতিষ্ঠান বাজারজাতকরণের জন্য আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা ও রাইয়ান পার্ল হারবারের পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার শিবনগর গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক পরিবারে তাঁর সন্তান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিশারিজ বিষয়ে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। তারপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে পাড়ি জমান। গবেষণা করেন সামুদ্রিক প্রবালের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে। তিনি জাপানের সিজুওকা ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রী অর্জন করেন। দেশে ফিরে যোগ দেন জাপানের আন্তর্জাতিক সংস্থা জাইকা’তে। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারী পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। চাকরী হারিয়ে গ্রামে ফিরে মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষে গড়ে তোলেন একটি জৈব কৃষি প্রকল্প। মাত্র ৩ দশমিক ৩ একর জমিতে এই “রাইয়ান জৈব-কৃষি” প্রকল্পটি। যার মধ্যে রয়েছে ২টি পুকুরসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির ফল-মুল, শাক-সবজী ও মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। একটি পুকুরে সেই কাঙ্খিত পার্ল হারবার যার মধ্যে দেশীয় প্রজাতির ঝিনুক সংরক্ষণ ও ঝিনুকের মাঝে মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন।