ঝুঁকিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ


meherin প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
ঝুঁকিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক : সুইফটে নিষিদ্ধ হচ্ছে রুশ ব্যাংক। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধ দুরূহ হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ রাশিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অর্থছাড়ও বাধাগ্রস্ত হবে। অবশ্য সুইফটের বিকল্প হিসেবে দু’দেশের ‘কারেন্সি সোয়াপ’ পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তির একটি প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দু’দেশের মধ্যকার লেনদেনে বড় কোনো সমস্যা হবে না।

সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বরাজনীতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বৈরিতার কারণে অনেক আগে থেকে সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তিকে অনিরাপদ মনে করে রাশিয়া। যে কারণে কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা ‘এসপিএফএস’ চালু করেছে। বাংলাদেশকেও ব্যাংকিং লেনদেনের বার্তা পাঠানোর এই বিকল্প ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছে রাশিয়া। তবে তাতে সায় দেয়নি বাংলাদেশ।এসপিএফএস ব্যবস্থার পরিবর্তে কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে এগোচ্ছে দু’দেশ। যদিও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বৈরিতার পরিপ্রেক্ষিতে এটি কতদূর এগোবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন। এ ব্যবস্থা চালু হলে এক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিপরীত মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট খুলবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকবে রাশিয়ান মুদ্রার হিসাব। আর রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকবে টাকার হিসাব। আমদানি, রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্য নিষ্পত্তির অতিরিক্ত পাওনা আন্তর্জাতিকভাবে বিনিময়যোগ্য তৃতীয় মুদ্রায় এক দেশ আরেক দেশকে পরিশোধ করবে। এই তৃতীয় মুদ্রা কী হবে, তা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্য রপ্তানি হয়। দেশটি থেকে গম, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে আমদানি হয়েছে সাত কোটি ৫৪ লাখ ডলারের পণ্য। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়। একই সময়ে আমদানি হয় ৪৬ কোটি ৬৭ কোটি ডলারের পণ্য।

সংশ্নিষ্টরা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি-রপ্তানির চেয়ে বাংলাদেশের জন্য বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এবং বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়া থেকে এক হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির জন্য ২০১৭ সালে এলসি খোলা হয়। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা ৯৭ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশান ফেডারেশনের ‘অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’-এর সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তিমূল্যের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে দেশটি।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান সমকালকে বলেন, সুইফটের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় সমস্যা হবে।এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এখন কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর একের পর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এবার বিশ্বের আন্তঃব্যাংক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরজুলা ফন দেওয়ার লায়েন গতকাল এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা সমর্থন জানিয়েছে। যদিও কখন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সুনির্দিষ্ট করে তা বলা হয়নি।