ডাইনোসরের দেহের ভাইরাস এখনো মানবদেহে


sraboni প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ ১ মার্চ , ২০২২
ডাইনোসরের দেহের ভাইরাস এখনো মানবদেহে

ফিচার ডেস্ক: জুরাসিক যুগে পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত ডাইনোসরের দল। সে আজ থেকে ২০ কোটি বছর আগের কথা। মানুষের উতপত্তির বহুকাল আগেই সেই ডাইনোসরের বিলুপ্তি হয়েছে পৃথিবী থেকে। কিন্তু সেই ডাইনোসরের দেহে থাকা ভাইরাস এখনো বেচে আছে মানবদেহে। এমনই তথ্য সামনে এসেছে গবেষণায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ডাইনোসরের সঙ্গে মানুষের একটা যোগসূত্র রয়েছে। ডাইনোসরের দেহ থেকে একটি ভাইরাস কোটি কোটি বছর আগেই মানুষের দেহে প্রবেশ করেছিল। আর সেই ভাইরাস এখনো মানবদেহে রয়ে গিয়েছেঅধ্যাপকের দাবি, ওই ভাইরাসের নাম ম্যাভেরিক ভাইরাস (Maverick)। আসলে এই ভাইরাসের বয়স ডাইনোসরের সমসাময়িক। অর্থাৎ এটি কোটি কোটি বছরের পুরোনো ভাইরাস।

অধ্যাপক এরিসের গবেষণা অনুযায়ী, প্রাচীন এই ভাইরাস মানুষের শরীরের জিনে লুকিয়ে এখনো মানবদেহে রয়ে গিয়েছে। ভাইরাস মানবশরীরে প্রবেশ করেছে জীবাশ্ম বা ফসিলের মাধ্যমে।মূল বিষয়টি হচ্ছে কোনো জীবাশ্মের মধ্যে ছিল এই ভাইরাস। সেই জীবাশ্মের সংস্পর্শে আসার ফলে মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে ভাইরাসটি। বিজ্ঞানীরা একটি জীবাশ্ম পেয়েছিলেন, যার মধ্যে এই ম্যাভেরিক ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। আবার মানব দেহের জিনের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলে তাতেও এই প্রাচীন ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে।

এই সংক্রান্ত নিজেদের গবেষণাপত্রে অধ্যাপক এরিস ও তার সঙ্গী জোস গ্যাব্রিয়েল, নিনো ব্যারেট লিখেছেন, ম্যাভেরিক ভাইরাস প্রায় ২০কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো। শুধু তা-ই নয়, এটি মানুষের শরীরেও বর্তমান। যা সত্যিই চাঞ্চল্যকর। ওই গবেষণাপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, মানুষের দেহের জিনে পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো ভাইরাস এটিই।

তবে মানুষের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব কি আদৌ কোনো প্রভাব রয়েছে? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকেই।গত দুই বছর ধরে পুরো পৃথিবীই করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে। অল্প সময়েই এই ভাইরাসের জেরে উত্তাল হয়েছে গোটা বিশ্ব। যদিও তা ধীরে ধীরে রোধ করা হচ্ছে। তৈরি হয়েছে ভ্যাক্সিনও।

এদিকে মানবদেহে অতিপ্রাচীন ম্যাভেরিক ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মেলায় চিন্তায় বিশেষজ্ঞ মহল। তবে জানা যাচ্ছে যে, বছরের পর বছর ধরে ম্যাভেরিক ভাইরাস মানবদেহে উপস্থিত থাকার ফলে তা ভালো ভাবে দেহের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে। আর তাই এর কোনো প্রভাব এখনো পর্যন্ত নজরে আসেনি।এই ভাইরাস আধুনিক ভাইরাস থেকে অনেকটাই আলাদা। এরা রেট্রোভাইরাসের মতো মানুষকে সংক্রমিত করে না। মানুষের জিনোমে লুকিয়ে থাকে।