জনগণের কল্যাণ সাধন করাই হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতির লক্ষ্য


sujon প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ ৮ মার্চ , ২০২২
জনগণের কল্যাণ সাধন করাই হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতির লক্ষ্য

‘দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’- এ চিন্তাধারা থেকেই ২০০৮ সালে উথলীতে গড়ে তোলা হয় হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমিতিটির মাধ্যমে মানুষ নানা ধরণের সেবা পেয়ে আসছে। এ সমিতিটির মাধ্যমে সমাজের কিছু মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচষ্টায় ধনিক শ্রেণির শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সচেষ্ট হচ্ছে। এছাড়া তৈরি হচ্ছে অনেক উদ্যোক্তাও। সম্প্রতি হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতির নানা কার্যক্রম নিয়ে ইতিহাস প্রতিদিনের সাথে কথা বলেন সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছে  শ্রাবণী খাতুন, মেহেরীন ও আসিফ মিয়া।

হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য কি?

জাহাঙ্গীর আলম: মানুষের পাশে দাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতি। আমরা দেখি ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ধনীদের দ্বারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থনৈতিক নিষ্পেষণের শিকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে শোষক শ্রেণির হাত হতে শোষিতদের আত্মরক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আমাদের সমবায় সমিতিটি। আমরা প্রতি বছর কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করি। রোগাক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া, কন্যাদ্বায়গ্রস্থ পরিবারের কন্যাদের বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম। এছাড়া সমিতির মাধ্যমে এই এলাকার অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হেল্প বহুমুখী সমবায় সমিতির মূল নীতি বা আদর্শ কি?

জাহাঙ্গীর আলম: ধনতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতিতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত উৎপাদক, ভোক্তা, শ্রমিক বা ব্যবসায়ীগণকে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চবিত্তগণ এসব ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত উৎপাদক শ্রেণির অস্তিত্ব ও স্বার্থকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। আমরা একতার মাধ্যমে উচ্চবিত্ত শ্রেণির যে কোনো অনাচারকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের সমিতিতে সকল সদস্যের অধিকার ও মর্যাদা সমান। সদস্যদের এবং জনগণের সেবা বা কল্যাণ সাধন করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতির উদ্দেশ্য কি? এবং সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?

জাহাঙ্গীর আলম: হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতির প্রধানতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সমিতির সদস্যদের আর্থিক ও বৈষয়িক কল্যাণ সাধণ। সমাজের নিম্ন আয়ের লোকজন তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচষ্টার মাধ্যমে ধনিক শ্রেণির শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় সচেষ্ট হয় আমাদের সমবায় সমিতির মাধ্যমে। এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের উচ্ছেদ, মূলধনের যোগান দেয়া, অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মের সংস্থান করা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, ঐক্য প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্ব সৃষ্টি, সামাজিক কল্যাণ, দক্ষতার উন্নয়ন সাধণ করা আমাদের সমিতির উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য শতভাগ পূরণ করতে না পারলেও অনেকাংশেই করতে পেরেছি। এলাকার মানুষের উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ তৈরি করেছি।

হেল্প বহুমুখী সমবায় সমীতি কৃষকদের উন্নয়নে কি ধরণের কাজ করছে?

জাহাঙ্গীর আলম: এলাকার কৃষির উন্নয়নে আমরা নানাভাবে কাজ করছি। কৃষকদের ঋণ দিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের দোরগোড়ায় কারিগরি পরামর্শ, প্রযুক্তি সেবা এবং কৃষি উৎপাদনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কাজ করছি।

আপনাকে ধন্যবাদ। শত ব্যস্ততার মাঝে সময় দেওয়ার জন্য। আপনার সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করছি।

জাহাঙ্গীর আলম: ইতিহাস প্রতিদিন পরিবারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।