‘দলীয়করণে শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় মাস্তানি করছে ছাত্ররা’


sraboni প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ণ ৩০ জুন , ২০২২
‘দলীয়করণে শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় মাস্তানি করছে ছাত্ররা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম নৈরাজ্য চলছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বলেন, শিক্ষায় দলীয়করণের কারণে শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় মাস্তানি করছে ছাত্ররা। তাদের হাতে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন।বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অর্থ বরাদ্দের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘ডাক্তার-প্রকৌশলী বানাচ্ছি, কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো।’ দায়িত্ব তো উনিও এড়াতে পারেন না। উনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন। তার কোনো গবেষণা ছিল না। ডক্টর ডিগ্রি নাই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন। সমস্যাটা এখানে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। তাদের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির ছাত্রনেতারা মাস্তান হয়ে যায়।

শিক্ষক লাঞ্চিতের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, নড়াইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত, জুতার মালা দিয়ে তাকে ঘুরানো হয়েছে। সাভারে হত্যা করা হয়েছে এক শিক্ষককে। হত্যাকারী কিশোর গ্যাংয়ের কাছে দাদা বলে পরিচিত। পরিচালনা কমিটির সদস্য তার আত্মীয়, আরেকজন শিক্ষক তাকে প্ররোচিত করেছেন। সেই শিক্ষক আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিক্ষার জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে।

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সমালোচনার জবাবে ফিরোজ রশীদ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে তো কথা বাড়ানোর দরকার নেই। হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরিয়ে ছেড়ে দেবেন। এই দেশে এটা তো হবে না। এগুলো বাদ দিয়ে আসল শিক্ষায় আসেন।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হাতে সিগারেট দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাতে কাপ আর সিগারেট। ছেলে-মেয়ে হাত ধরাধরি করে হাঁটাহাঁটি করছে, আর সিগারেট খাচ্ছে। এটা কোন সংস্কৃতি? কোন শিক্ষা।শুধু শিক্ষার মান নয়, নৈতিকতাও কমেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকেও শক্ত হতে হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ১৮-২০ লাখ নতুন চাকরি প্রত্যাশী জব মার্কেটে প্রবেশ করেন। তার মধ্যে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৫-৬ লাখের কর্মসংস্থান হয়। বাকী সবাই থাকে বেকার। এই বেকারের মধ্যে শিক্ষিত বেকার। যে শিক্ষা ব্যবস্থা বেকারত্ব তৈরি করে।বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা র্যাকিংয়ে আমরা কোন জায়গায় আছি? কল্পনা করা যায়! পাঁচ হাজারের মধ্যেও নাই।রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে মানটাই সমস্যা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে দেখা যায় শিক্ষার মানে ক্রম অবনমন। র্যাকিংয়ে ধস।