‘‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও কোনো উন্নতি হয়নি’’


sujon প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ ৪ এপ্রিল , ২০২২
‘‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও কোনো উন্নতি হয়নি’’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো গত তিন বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু দুটোই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২১ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০৩ জনই শিক্ষার্থী। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছর যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ১৩ শতাংশই শিক্ষার্থী। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় নানা বিষয়ে নিয়ে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক ’এর সাথে কথা হয় ইতিহাস প্রতিদিনের প্রতিবেদক মেহেরীণ আক্তারের।

ইতিহাস প্রতিদিন: সড়ক দুর্ঘটনা কি?

ওমর ফারুক: বেদনাদায়ক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ের আলোচিত ও মর্মস্পর্শী ঘটনা। আজকাল সড়ক দুর্ঘটনা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পত্রিকা খবর দেখলে সহজেই চোখে পরে সড়ক দুর্ঘটনার মত মর্মস্পর্শী ঘটনা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এইসব দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে শত পরিবারের আপন জন সেই সাথে তাদের স্বপ্নগুলো। তাই এই সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ আমাদের নিরাপত্তার প্রধান হুমকি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো গত তিন বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু দুটোই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ইতিহাস প্রতিদিন: সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কি কি কারণ দায়ী বলে আপনি মনে করেন?

ওমর ফারুক: সড়ক দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে আমি মনে করি সচেতনতার অভাব। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার কিছু কারণ হলো

১. সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতি।

২. অনুমোদনপত্র বিহীন গাড়ি রাস্তায় চালানো।

৩. মাদকদ্রব্য অবস্থায় গাড়ি চালানো ও অদক্ষ চালক।

৪. ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ অমান্য করা।

৫. পথচারীদের অসচেতনতা ও রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা।

৬. গাড়িতে বাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করে।

ইতিহাস প্রতিদিন: সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের কি করা উচিত?

ওমর ফারুক: দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত। সচেতন মূলক কাজ গুলো হলো:

১. গাড়ির বেপরোয়া গতি এড়াতে নির্দিষ্ট গতি সীমার মধ্যে গাড়ি চালানো উচিত।

২. গাড়ি চালানোর সময় পাশের ব্যক্তির সাথে বা মুঠোফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

৩. গাড়ির চালককে গাড়ি চালানোর আগে বা পরে মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. প্রত্যেকের উচিত যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা।

৫. পথচারীদের সচেতনভাবে পারাপার হওয়া এবং প্রয়োজনে ওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উচিত।

ইতিহাস প্রতিদিন: সড়ক দুর্ঘটনা ব্যক্তি জীবনের উপর কি প্রভাব ফেলে?

ওমর ফারুক: সড়ক দুর্ঘটনার ফলাফল কেবল মানুষের মৃত্যুর ক্ষতি নয়। অপূরণীয় আরো অনেক ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয় সাধারণ মানুষের জীবনে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেক মানুষ প্রাণে বেঁচে থাকে কিন্তু জীবনের স্বাভাবিক গতি তারা হারিয়ে ফেলে চিরকালের মতো। পঙ্গুত্ব শারীরিক বৈকল্য যন্ত্রণা ও বেদনার ভার বহন করে বেঁচে থাকা সেইসব মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়।

ইতিহাস প্রতিদিন: আপনার চোখে দেখা কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় অভিজ্ঞতা আমাদেরকে একটু বলেন।

ওমর ফারুক: যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার মায়ের সাথে মামা বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পথে মেইন রোডে হঠাৎ একটা দ্রুতগামী ট্রাক এসে একটা ভ্যানকে বেপরোয়াভাবে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ঐ ঘটনা স্থলে ভ্যান যাত্রীদের মধ্যে ছিল একটি মা ও শিশু। শিশুটি ভ্যান গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। ভ্যান গাড়ির ড্রাইভার টা ছিটকে পাশে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাটি দেখে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে আশেপাশের প্রচুর লোক জড়ো হয়। আমরাও গাড়ি থেকে নেমে বিষয়টি দেখতে চাই। দেখি মা টি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে এবং তিনজন যাত্রী খুবই গুরুতর ভাবে আহত। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি হল শিশুটি গাড়ির নিচে চাপা পড়েছিল এবং তার আর কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। আহত সকলকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে জানা যায়, শিশুটি মারা গেছে। বলতে গিয়ে এখনো আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে।

ইতিহাস প্রতিদিন: আপনার সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করছি। শত ব্যস্ততার মাঝে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ওমর ফারুক: ইতিহাস প্রতিদিন পরিবারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।