নীলফামারীর ডোমারে বেড়েছে বাদামের চাষ


rupali প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ ১৬ জুন , ২০২২
নীলফামারীর ডোমারে বেড়েছে বাদামের চাষ

বিকাশ রায় বাবুল, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে বাদামের চাষ। অল্প খরচে বাদাম চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এই উপজেলার কৃষকরা বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ হেক্টর বেশী জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বেলে দো-আশ মাটিতে বাদামের চাষ ভালো হয়।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে তেমন শ্রম দিতে হয় না। রোগ বালাই কম হওয়ায় কীটনাশকের কোন ঝামেলা তেমন নাই। কয়েক বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করলেই হয়। জানুয়ারী থেকে ফেব্রুয়ারী মাস বাদামের বীজ বপন কাল। বপন কাল থেকে ৯০ থেকে ১শ দিনের মধ্যে এ ফসল উঠানো যায়।

পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের বাদাম চাষী রবিউল ইসলাম জানান, বাদাম মাটিতে রোপন জাতীয় ফসল তাই বাদামের জমি ভালো করে চাষ করতে হয়। জমি ৩ থেকে ৪টি চাষ দিতে হয়। কারন মাটি নরম থাকলে বাদাম আকারে বড় হয়। ১বিঘা জমি তৈরিসহ বাদাম বীজ রোপন থেকে তুলে আনা পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ লাগে।

সোনারায় ইউনিয়নের চিলমারীর ডাঙ্গার বাদাম চাষী নুর আলম জানান, আমি দেড় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ভালো ফলনের আশা করছি। বিঘা প্রতি (৩৩শতক) জমিতে ৮ থেকে ১০মন পর্যন্ত বাদাম হবে। বর্তমানে প্রতি মন বাদাম ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে চলছে। তবে বাদামের মান অনুযায়ী আরো বেশী চলছে। আমার একটি জমিতে আগাম বাদাম চাষ করেছি। সেই জমিতে ৮ মন বাদাম হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩মন বাদাম বেশী হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ডোমার উপজেলায় ৮শ ৪০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বাদামে ভালো ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, বেলে দো- আশ মাটিতে বাদাম চাষবাদ ভালো হয়। ডোমার উপজেলার মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলার চিলমারীর ডাঙ্গা, বড় রাউতা চিলাই, জলদান পাড়া, বগুড়ার ডাঙ্গা ও ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে বাদাম চাষ বেশী হয়। বাদাম চাষে তেমন খরচ লাগে না। গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ বেশী হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আনিছুজ্জামান বলেন, কৃষক আলু উঠানোর পর বাদাম চাষ করে, বাদাম তুলে আমন ধান লাগায়। বছরে একটি কৃষক জমিতে তিনটি ফসল করতে পারছেন। এতে কৃষক সব দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছেন। এবার উপজেলায় ৮শ ৪০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কম বেশী বাদাম চাষ হয়েছে। ভালো ফলনের আশা করছি।