প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারে সমন্বিত ভূমিকা চান ব্যবসায়ীরা


sraboni প্রকাশিত: ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ ২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারে সমন্বিত ভূমিকা চান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকার একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্লাস্টিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যের তুলনায় ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের মাধ্যমেই পরিবেশ অধিক নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইন্টারন্যাশনাল সিনার্জি লিমিটেড, ম্যক্সওয়েল স্ট্যাম্প লিমিটেড ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক বর্জ্য কিংবা ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত বর্জ্য কীভাবে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা যায়, সরকার এ বিষয়ে আরও সুনজর দিতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার ও গবেষকদের আলোচনা করে সমন্বিত কাজ করা প্রয়োজন।

গবেষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে কীভাবে কাজ হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আপনারা গবেষণা করুন। গবেষকরা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হোন। আমাদের কোম্পানিতে কীভাবে কাজ হচ্ছে আপনারা পরিদর্শন করুন, গবেষণা করুন। আমরাও আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই।

প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশকে কীভাবে ক্ষতি করছে তা তুলে ধরে গবেষকরা বলেন, এখন প্লাস্টিকের সময় চলছে। এ পণ্যটা আমাদের সব ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু ব্যবহার শেষে এটি আমাদের অনেক ভয়াবহভাবে ক্ষতিও করছে। আমরা যদি এটির ভয়াবহতা চিন্তা করি তাহলে বুঝতে পারবো প্লাস্টিক আমাদের কতোটা ক্ষতি করছে।

সেমিনারে উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য নেই দাবি করে ব্যবসায়ীরা বলেন, বাংলাদেশে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে কোনো বর্জ্য আসে না। প্লাস্টিক তৈরি কারখানার কোনো বর্জ্য বাইরে যায় না। শুধু ভোক্তা পর্যায়ে যেটা ব্যবহার হয়, সেটা থেকে বর্জ্য তৈরি হয়। যে জিনিসটা মাটি নষ্ট করছে, পানি নষ্ট করছে সেটা ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য। ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোনো বর্জ্য পানিতে যায় না।

এসময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন করতে গবেষকদের প্রতি আহ্ববান জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, আপনারা আসুন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন করুন। পরিদর্শন না করলে আমাদের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কাজ হচ্ছে তা বোঝা যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ্ধতিগত সমস্যা থাকে, তবে আমরা আলোচনা করে সেসব বিষয়ে সমাধান করতে পারবো।এসময় দেশের প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করতে পারছে বলেও জানান তারা।

সার্বিক আলোচনা বিষয়ে ম্যাক্সওয়েল স্ট্যাম্প লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ নুরউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সেমিনারে ইতিবাচক বিষয়গুলো উঠে এসেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, প্রত্যেকটি বর্জ্যকে আরেকটি উৎপদনযোগ্য শিল্প কারখানার উপাদান হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা। এক্ষেত্রে সরকার আমাদের সব সময় সহযোগিতা দিচ্ছে।সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউনিডোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. জ্যাকিউজ্জামান, বিপিজিএমইএ সভাপতি শামিম আহমেদ, বিভিন্ন প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও গবেষকরা।