বরগুনায় ফায়ার-সার্ভিসের কর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষের অ-সাধারণ শ্রম


sujon প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ ৯ মার্চ , ২০২২
বরগুনায় ফায়ার-সার্ভিসের কর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষের অ-সাধারণ শ্রম

এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা শহরের পশু হাসপাতাল সড়কে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে স্বেচ্ছায় আগুন নেভানোর কাজে সাধারণ মানুষ অ-সাধারণ শ্রম দিয়েছেন।

এদের মধ্যে স্বেচ্ছায় শ্রম দেয়া দু-এক জন অ-সাধারণে সাথে কথা হয়েছে প্রতিবেদকের।

শহরের পশু হাসপাতাল সড়কে কয়েকটি দোকানে সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় দেখতে আসে হাসান নামের এক কিশোর। সে শহরের পিটি আই সাইফ গ্যাসের সিলিন্ডারের দোকানের কর্মচারী। আগুন লেগেছে দেখেই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে স্বেচ্ছায় কাজে লেগে পড়ে। পাইপের পানিতে তার শরীর ভিজে যায়। ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়ে তার শরীর। তার পরেও একটাই লক্ষ আগুন নিভাতে হবে। বুঝে হউক না বুঝে হউক মানুষের উপকার করতে হবে।

তেমনি অলি-উল্লা নামে আরেক কিশোর আগুন লেগেছে শুনে দেখতে এসে সে স্বেচ্ছায় কাজে লেগে যায়। যেখানে সাধারণ মানুষের অভিযোগ অগ্নি-কান্ডের ঘটনায় ফায়ার-সার্ভিস কর্মীরা নদীতে নামেনি বা নামতে চায়নি । সেখানে ঔই কিশোর অলি উল্লা নদীতে নেমে পাইপে পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এতে তার পাও কেটে গিয়েছে। কিন্তু কোন চিকিৎসা জোটেনি। কোন স্বেচ্ছা-সেবী সংগঠনের সদস্য না হয়েও সে মানুষ হিসেবে মানুষে পাশে দাঁড়িয়ে অ-সাধারণ কাজ করেছে।

অন্য আর একজন সাধারণ স্বেচ্ছা-সেবক শুভ মিয়া অগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে এসে পড়ে গিয়ে পা কেটে ফেললেও তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মত কোন জরুরী ব্যবস্থা নিতে পারেনি বরগুনার ফায়ার সার্ভিস ইউনিট।

এমনকি হতাহতের জন্য কোন ব্যবস্থা দেখা যায়নি ঘটনা স্থলে।

তবে ফায়ার সার্ভিসের বরাতে ধারনা করার হচ্ছে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড লেপ তোষকের দোকান থেকে বিদ্যুতের শট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। এরই মধ্যে আগুনে পোল্টি ফিডসহ ৪ টি ফার্মেসি, ১টি আবাসিক হোটেল, ৪টি লেপ তোষকের দোকান এবং হোমিও চেম্বার ও ফটোকপি এবং কম্পিউটারের দোকান পুড়ে গেছে। এতে ১৯ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট সহ স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বরগুনা শহরের ধানসিঁড়ি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি চাকুজীবি নিজাম উদ্দিনের বসতঘর আগুনে পুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

সেখানোও বরগুনা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অবহেলা ও গাফেলতির অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার দিন শহরে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভাতে ঘটনা স্থলে আসলে তাদের ইউনিটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে ও ফাটা পাইপে পানি সরবারহ করতে পারছিল না। এতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে সাধারণ জনতা।

পরে জনতা রোষানল থেকে বাচঁতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের গাড়ি নিরাপদে সড়িয়ে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে প্রথমে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ, বরগুনার বেতাগী এবং সর্বশেষে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪টি ইউনিটের ৩ ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ততক্ষণে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১২টি স্থাপনা আগুনে ভস্মীভূত হয় এবং ১৯ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাছাড়া জাকার মিয়ার স্টার, ইসমাঈল মিয়ার মুন ফার্মেসিসহ মোট চারটি ফার্মেসি এবং খান হোটেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

ফার্মেসির ওষুধের ক্যামিকেল ও দ্বার্য্য পদার্থ আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তবে এ ঘটনা কোন হতাহতে খবর পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার খবর পেয়ে ওই দিন রাতেই পৌর-প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপনসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশসহ স্বেচ্ছা-সেবী সংগঠনের সদস্য ও কিছু সাধারণ মানুষ আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন।

এ সময় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ মানুষ সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই উত্তেজিত হয়ে যান। তারা বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দায়িত্বহীনতা ও গাফেলতির কারণেই বরগুনায় একের পর এক আগুনে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা ও উপস্থিত জনসাধারণ।

প্রত্যাক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আ. সালাম, শিমুল মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন বলেন,পৌনে ১ঘন্টা আগুন জ্বলার পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে আসলেও অদক্ষ ড্রাইভারে কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী বিদ্যুতে পিলারের সাথে লাগিয়ে দেয়।

ড্রাইভার গাড়ী ঘুড়াতে পারছিল না। পরে অন্য ড্রাইভার এসে জনরোষে গাড়ী ঘুড়িয়ে নিরাপদে নিয়ে যায়। আগুন লাগার আধা ঘন্টার মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে আসতে পারেনি।

তারা আরও বলেন ফায়ার সার্ভিসের মেশিন নষ্ট ছিল। হতাহতে জন্য ফায়ার সার্ভিসে ছিল কোন এ্যাম্বুলেন্স সেবা।

বটতলা এলাকার মোফাজ্জেল বলেন, ধানসিঁড়ি সড়কে নিজাম ভাইয়ের ঘরে আগুন লাগার ঘটনায়ও ফায়ার সার্ভিসের গাফেলতি ছিল।

তারা পাইপ নিয়ে আসেনি। অদক্ষ চালক থাকায় তার গাড়ীও ঠিকমত ঘুরাতে পারছিল না।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বরগুনা ইউনিটের ডিএডি মো. জাহাঙ্গীর আহম্মেদ এর কাছ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমরা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় মির্জাগঞ্জ, বেতাগী ও আমতলী এ ৪টি ইউনিট মিলে ৩ ঘন্টা চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। ধারনা করা হচ্ছে লেপ-তোষকের দোকান থেকে বিদ্যুৎ অথবা অন্য কোন ভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক ভাবে ১০ কোটি টাক ধরা হয়েছে।

এ ঘটনা কোন তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা এবং বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের গাফলেতি আছে কিনা এমন প্রশ্নে
তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাকে জানিয়েছেন এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি হবে। আর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী সামান্য পানি থাকে তা দিয়ে প্রাথমিক কাজ চালানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী চালানোর দক্ষ ড্রাইভারের অভাব কিনা এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদত্তর দিতে পারেনি।