বাংলাদেশ কৌশলগত কারণেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোটদানে বিরত ছিল : তথ্যমন্ত্রী


sujon প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ ৫ মার্চ , ২০২২
বাংলাদেশ কৌশলগত কারণেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোটদানে বিরত ছিল : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা প্রস্তাবে বাংলাদেশ কৌশলগত কারণেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোটদানে বিরত ছিল বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিকালে চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় বাংলাদেশ। এসময় ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানান তথ্যমন্ত্রী।

শনিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রেক্ষাগৃহে ১৫তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকা সংবিধান লংঘন, বিএনপির মহাসচিবের এ মন্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘে বাংলাদেশসহ সব দেশই বিভিন্ন সময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভোটদানে বিরত থাকে। এবার যখন জাতিসংঘে এই প্রস্তাব আনা হয়, তখন ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন, ভারত কেন ভোটদানে বিরত ছিল, সেটিরও একটি ব্যাখ্যা যদি তিনি দেন।’

বিএনপির নেতারা আসলে সব বিষয়ে মতামত দিতে দিতে কোনটাতে কী বলবেন খেই হারিয়ে ফেলেন, এ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। আমরা অবশ্যই যেকোনো সংঘাতের বিরোধী। পৃথিবীতে শান্তি স্থাপিত হোক, শান্তি বিরাজ করুক, সেটিই আমরা চাই। কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘে ভোটদানে বিরত ছিল।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘চল্লিশের দশকে যখন বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়, তখন এক আনা অর্থাৎ ১৬ পয়সায় কয়েক কেজি চাল পাওয়া যেত। দেখতে হবে, দ্রব্যমূল্যের সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে কি না। গত ১৩ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ আর নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিও এমনই। তাছাড়া, ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর তুলনায় দেশে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার অনেক কম।’

এর আগে চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছে দিতে বস্তুগত উন্নয়নের সাথে প্রয়োজন আত্মিক ও মানবিক তথা জাতিগত উন্নয়ন। শিশুতোষ চলচ্চিত্র শিশু-কিশোরদের মেধা-মনন-দেশপ্রেম-মমতার বিকাশ ঘটিয়ে জাতিগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।’

এসময় তথ্যমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে শিশুতোষ চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আজকের শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতাই হতে পারে আগামীর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী। আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তার প্রস্তুতির জন্য এমন আয়োজন অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’

চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উৎসব উপদেষ্টা চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম, ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. নিজামুল কবীর, উৎসব পরিচালক তরুণ চলচ্চিত্রকার শাহরিয়ার আল মামুন উৎসবের নানা দিক তুলে ধরেন।

ফিল্ম আর্কাইভে সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে শিশু-কিশোরদের নির্মিত ও শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত ৩৮টি দেশের ১১৭টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। প্রদর্শনী সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।