ভোলার শশীভূষণে বড় ভাইকে রাস্তায় পিটিয়ে বিবস্ত্র, আটক এক


sujon প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ ৭ মার্চ , ২০২২
ভোলার শশীভূষণে বড় ভাইকে রাস্তায় পিটিয়ে বিবস্ত্র, আটক এক

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা: ভোলার চরফ্যাশনের শশীভূষণে সৎ ভাইরা প্রতারনা করে বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নেয়ায় আদালতে মামলা করে ছোট ভাই ও ভাতিজাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নুর সোলাইমান নামের এক বড় ভাই।

অসহায় বড় ভাইকে দলবদ্ধ ভাবে পিটিয়ে বিবস্ত্র করে রাস্তার পাশের বাগানে ফেলে রাখেন সৎ ছোট ভাই আলমগীর, কবির ডাক্তার, জাহাঙ্গীর, ভাতিজা মামুন, জাহাঙ্গীরের শ্যালক বাবুলসহ কয়েকজন।

রোববার রাতে শশীভূষণ থানার পাশেই সড়কে প্রকাশ্য মারধরের পর বিবস্ত্র করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়।

রাতেই বড় ভাইকে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে বিবস্ত্র করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে শুরু হয় তোলপাড়।

মুহুর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

এঘটনায় গতকাল সোমবার নির্যাতনের শিকার নুর সোলাইমানের স্ত্রী তাছনুর বেগম বাদি হয়ে ৫ জনকে আসামী করে শশীভূষণ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার মূল হোতা ভাই কবিরকে  আটক করেন। গুরুতর আহত নুর সোলাইমান চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, শশীভূষণ থানার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্রামের মো. হোসেন ডাক্তার ৩টি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী আরফুজা বেগমের ঘরে নুর সোলাইমানসহ ৪ ভাই ও ২ বোন, দ্বিতীয় স্ত্রী হনুফা বেগমের ঘরে আলমগীর, জাহাঙ্গীরও কবিরসহ ৪ ভাই এবং তৃতীয় স্ত্রী গোলাপজানের ঘরে কোন ছেলে-মেয়ে নেই। মো. হোসেন ডাকতার দ্বিতীয় স্ত্রী হনুফার দ্বিতীয় ছেলে আলমগীরের ও কবির ডাক্তার চর ফকিরা মৌজায় বৃদ্ধ বাবাকে ভুল বুঝিয়ে প্রায় তিন একর ২৮ শতাংশ বাবার জমি তাদের নামে লিখে নেয়। ঘটনাটি বড় ভাই নুর সোলাইমান জানতে পেরে আদালতে সৎ ভাইদেরসহ অপর ওয়ারিশদেরকে  বিবাদী করে  একটি বন্টন চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।  তাদের বাবা মোঃ হোসেন ডাক্তার ও ছেলেদের প্রতারনা করে নেয়া দলিল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই দুইটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। ওই জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করে বিবস্ত্র করে রাস্তার পাশের বাগানে ফেলে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শী পথচারীরা এই ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসলে তোলপাড় শুরু হয়।

হাসপাতালে চিকিসাধীন নুর সোলইমান জানান, পূর্ব থেকেই ছোট সৎ ভাই ফারুক, আলমগীর কবির হোসেনসহ তার সৎ ভাইদের সাথে তার বাবা এবং তার সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে।

রোববার তিনি শশীভূষণ বাজারে নিজের আবাদ করা মরিচ বিক্রি করতে যান। বেচা বিক্রি শেষে তিনি  বাকী মরিচ বিক্রির  পাওনা টাকা আনতে থানার
পাশের এক ব্যক্তির কাছে যান । ওই সময় পূর্ব থেকেই উৎপেতে থাকা সৎ ভাই আলমগীর, কবির ডাক্তার, ভাতিজা মামুন, ভাই জাহাঙ্গীরের শ্যালক
বাবুলসহ তার গতিরোধ করে এলোপাতারি মারধর শুরু করেন। এবং আমাকে বিবস্ত্র করে রাস্তার পাশের ফেলে রাখেন। পথচারীরা উদ্ধার করে স্বজনদেরকে
খবর দেন। এবং রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত গা-ঢাকা দেয়ায় তাদের বক্তব্য জানাযায়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা কবির হোসেন কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আক্রান্ত নুর সোলাইমানের স্ত্রী তাছনুর বেগম বাদি হয়ে ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ কবির হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে। বাকী আসামীদের আটকে অভিযান অব্যহত রয়েছে।