ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বরগুনায় ১২টি দোকান পুড়ে ছাই


sujon প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ ৮ মার্চ , ২০২২
ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বরগুনায় ১২টি দোকান পুড়ে ছাই

এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি: শহরের পশু হাসপাতাল সড়কে ভয়াবহ অগ্নকান্ডে অন্তত ১২টি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ধারনা করার হচ্ছে লেপ তোষকের দোকান থেকে বিদ্যুতের শট সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে।

এরই মধ্যে আগুনে পোল্টি ফিডসহ ৪টি ফার্মেসি, ১টি আবাসিক হোটেল, ৪টি লেপ তোষকের দোকান, হোমিও চেম্বার, ফটোকপি ও কম্পিউটারের দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট সহ স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে বরগুনা শহরের ধানসিঁড়ি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি চাকুজীবির বসতঘর আগুনে পুড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

শহরে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভাতে ঘটনা স্থলে আসলে তাদের ইউনিটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে ও ফাটা পাইপে পানি সরবারহ করতে পারছিলনা। এতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে জনতা। পরে জনতা রোষানল থেকে বাচঁতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের গাড়ি নিরাপদে সড়িয়ে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে প্রথমে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ, বরগুনার বেতাগী এবং সর্ব শেষে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪টি ইউনিটের ৩ ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১২টি স্থাপনা আগুনে ভস্মীভূত হয়।

তাছাড়া জাকার মিয়ার স্টার , ইসমাঈল মিয়ার মুন ফার্মেসিসহ মোট চারটি ফার্মেসি এবং খান হোটেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। ফার্মেসির ওষুধের ক্যামিকেল ও দ্বার্য্য পদার্থ আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।

তবে এ ঘটনা কোন হতাহতে খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পৌর-প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপনসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশসহ স্বেচ্ছা-সেবী সংগঠনের সদস্য ও কিছু সাধারণ মানুষ আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন।

এ সময় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ মানুষ সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই উত্তেজিত হয়ে যান। তারা বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । তাদের দায়িত্বহীনতা ও গাফেলতির কারণেই বরগুনায় একের পর এক আগুনে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা ও উপস্থিত জন-সাধারণ।

প্রত্যাক্ষদর্শী ব্যবসায়ী আ. সালাম, শিমুল মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন বলেন, পৌনে ১ঘন্টা আগুন জ্বলার পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে আসলেও অদক্ষ ড্রাইভারে কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী বিদ্যুতে পিলারের সাথে লাগিয়ে দেয়। ড্রাইভার গাড়ী ঘুড়াতে পারছিল না । পরে অন্য ড্রাইভার এসে জনরোষে গাড়ী ঘুড়িয়ে নিরাপদে নিয়ে যায়। আগুন লাগার আধা ঘন্টার মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ঘটনা স্থলে আসতে পারেনি।

তারা আরও বলেন ফায়ার সার্ভিসের মেশিন নষ্ট ছিল। হতাহতে জন্য ফায়ার সার্ভিসে ছিল কোন এ্যাম্বুলেন্স সেবা।

বটতলা এলাকার মোফাজ্জেল বলেন, ধানসিঁড়ি সড়কে নিজামের ঘরে আগুন লাগার ঘটনায়ও ফায়ার সার্ভিসের গাফেলতি ছিল। তারা পাইপ নিয়ে আসেনি । অদক্ষ চালক থাকায় তার গাড়ীও ঠিকমত ঘুরাতে পারছিল না।

এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বরগুনা ইউনিটের ডিএডি মো. জাহাঙ্গীর আহম্মেদ এর কাছ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমরা বরগুনা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি ,আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় মির্জাগঞ্জ, বেতাগী ও আমতলী এ ৪টি ইউনিট মিলে ৩ ঘন্টা চেষ্টায় আগুন পুরোপুড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। ধারনা করা হচ্ছে লেপ-তোষকের দোকান থেকে বিদ্যুৎ অথবা অন্য কোন ভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক ভাবে ১০ কোটি টাক ধরা হয়েছে।

এ ঘটনা কোন তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা এবং বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের গাফলেতি আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাকে জানিয়েছেন এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি হবে। আর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী সামান্য পানি থাকে তা দিয়ে প্রাথমিক কাজ চালানো হয় । তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী চালানোর দক্ষ ড্রাইভারের অভাব কিনা এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদত্তর দিতে পারেনি।