মার্চের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা


rupali প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
মার্চের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ আছে, ৩১ মার্চের পর তাদের বিরুদ্ধে সরকার হার্ডলাইনে যাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) এএইচএম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সহায়তার শেষ তারিখ হলো ৩১ মার্চ। এর মধ্যে যদি তারা সাহায্যের জন্য আসে, তাহলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সাহায্য করব। একই সঙ্গে তাদের ব্যাংকিং সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু এরপর আমরা আর তাদের বাইরে দেখতে চাই না। তাদের জেলের ভেতরে দেখতে চাই।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসএল গেটওয়ে পেমেন্টে দালাল প্লাসের গ্রাহকদের আটকে থাকা টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে দালাল প্লাসের এসএসএল গেটওয়ে পেমেন্টে আটকে থাকা ১ কোটি টাকা থেকে ১০ জন গ্রাহককে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়।

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, সার্বিকভাবে আমার যেটা মনে হয়, ই-কমার্সের যে অস্থির অবস্থা। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে আমরা বেরিয়ে আসছি। কিন্তু একটা জিনিস বলতে চাই, যারা এখানে বিনিয়োগ করেছে তাদের বলতে চাই, অনেকেই ধৈর্যহারা হয়ে গেছেন, ধৈর্যহারা হলেই যে ১০ দিনের মধ্যে সব ঠিক করে দেব বিষয়টা এত সহজ না। এখানে অনেক জটিলতা রয়েছে। যেমন কিছু টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে, সে টাকা ফেরত আনতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কিছু টাকা এসএসএল, হস্টার বা অন্য পেমেন্ট গেটওয়েতে আছে। তার চেয়ে গ্রাহকদের দাবি অনেক অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে তাদের নিজস্ব কিছু সম্পত্তি দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। সরকার আসলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট করতে চায় উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব বলেন, তাদের এ সাপোর্টটা গ্রহণ করা দরকার। গ্রাহকদের যে টাকাটা আটকে আছে সেটা ফেরত দিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি। তবে এ কাজের একটা শেষ আছে। আমরা বছরব্যাপী এ কাজ করতে পারব না, এজন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলোকে সুযোগ দিচ্ছি। তারা যোগাযোগ করে একটা পদ্ধতির মধ্যে আসুক।

তিনি বলেন, ৩১ মার্চের মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান কোনোভাবে যোগাযোগ না করে বা তাদের প্রতিনিধি যদি এখানে পজিটিভভাবে না আসে, সেক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা আছে ৩১ মার্চের পর তারা বাংলাদেশে লুকিয়ে থাকবে এটা আমরা চাই না। তারা পালিয়ে যাবে সেটা ভিন্ন বিষয়। অথবা তারা জেলের মধ্যে থাকবে। আমরা হার্ডলাইনে যাব ৩১ মার্চের পর। যারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দেবে আমাদের কাছে সাহায্য চাইবে, তাদের আমরা আইনানুগ সাহায্যের চেষ্টা করব। কিন্তু দেশের ভেতরে থেকে লুকোচুরি করবে সেটা হবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলা রয়েছে। আমাদের মূল অ্যাকসেস গ্রাহকদের যে টাকা আমাদের যে থার্ডপার্টি বা পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে আছে, সে টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে মামলার বিষয়গুলো থেকে সেটা আলাদা দেখতে চাই। প্রকৃত গ্রাহকরা যাতে পায়, সেজন্য আমাদের লিগ্যাল প্রসিডিউর রয়েছে, সে জায়গাগুলো একটু ভিন্নভাবে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমায় আটকা আছে, জেলহাজতে আছে। সেখান থেকে তাদের বের করতে হলে আইনানুগ ব্যবস্থা অবলম্বন করেই বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ই-ক্যাব মুভ করতে পারে। আর আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে আলোচনা করেছি যে তাদের যদি কন্ডিশনাল বেল দেয়া যায়। তাহলে তারা আবার তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো রান করাতে পারবে। সেটা আমরা মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আইন মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছি।

উল্লেখ্য, এসএসএল গেটওয়ে পেমেন্টে দালাল প্লাসের ১ কোটি টাকা আটকে আছে। সেখান থেকে আজকে ১০ জন গ্রাহককে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হলো। অভিযোগের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ২৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ৫০০ কোটি টাকা আটকে আছে এসএসএলসহ বিভিন্ন গেটওয়ে পেমেন্টে।