যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ


meherin প্রকাশিত: ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ ২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় কোনো সামরিক জোট যোগ দেওয়া থেকেও বিরত থাকবে। গতকাল শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এ কথা জানান। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারনাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) ওই সেমিনার আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সহযোগিতাকে খুব গুরুত্ব দেয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার নতুন পথ খোলার জন্য প্রচেষ্টা চালাব। একই সঙ্গে, আমরা বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং টেকসই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে এই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করব। ’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা যে কোনো সামরিক জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখব। আমরা অপ্রচলিত নিরাপত্তাবিষয়ক যে কোনো গঠনমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকব। এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে। ’

পররাষ্ট্র সচিব এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেছেন যখন বাংলাদেশ ঢাকা-ওয়াশিংটন অংশীদারি সংলাপসহ কয়েকটি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব বৈঠক সামনে রেখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চুক্তি স্বাক্ষরে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ তার সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্রসহ সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ‘জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) ও ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্টের (আকসা)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব সেমিনারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিটি বৈঠক বা সম্ভাব্য যে কোনো সুযোগে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বাংলাদেশ তুলছে এবং আগামীতেও তুলবে। বাংলাদেশ বলছে, ওই নিষেধাজ্ঞা অযৌক্তিক। স্বার্থান্বেষী মহলের দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ ও অতিরঞ্জিত তথ্যের ভিত্তিতে ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘র‍্যাব এবং এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আমাদের অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। স্পষ্টত, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এটি গোপন রাখতে চেয়েছিল। ’

তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশের স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাদেশকে হেয় করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেশ ক’বছর ধরে ওয়াশিংটন ডিসি ও অন্য বড় রাজধানী শহরগুলোতে সক্রিয় রয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞার পরপরই বাংলাদেশ তাত্ক্ষনিকভাবে গভীর অসন্তোষ জানিয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পররাষ্ট্র নীতিরও অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো কেবল ভূরাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে দেখলে পুরোপুরি চিত্র পাওয়া যাবে না। তবে সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে ভূরাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আকস্মিক হলেও ইস্যু ও অভিযোগগুলো নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পশ্চিমা দেশ এবং জাতিসংঘের কাছ থেকে আমরা অভিযোগগুলো বছরের পর পর বছর ধরে পাচ্ছি।

পররাষ্ট্র সচিব র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন পরিস্থিতি নিয়ে আরো কাজ করার ওপর জোর দেন।