রপ্তানিমুখী পোশাক পণ্যে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি চায় বিকেএমইএ


meherin প্রকাশিত: ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ ২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
রপ্তানিমুখী পোশাক পণ্যে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি চায় বিকেএমইএ

নিজেস্ব প্রতিবেদক : শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্য-বাধকতা থেকে অব্যাহতি এবং তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতিসহ ১৫ সুবিধা চায় ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মিলনায়তনে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় নিটওয়্যার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিতি ছিলেন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় তার সঙ্গে আরও ছিলেন সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট জনবলের ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এত কর্ম উপযোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়ার জন্য পাওয়া যায় না। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট জনবলের ন্যূনতম ১ শতাংশ, ২ শতাংশ, ৩ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে ওই করদাতাকে প্রদেয় করের যথাক্রমে ২, ৩ ও ৪ শতাংশ কর রেয়াতের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাই।

লিখিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার জন্য রপ্তানিকারক ও প্রচ্ছন্নকারকের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বা স্পেশাল বন্ডেড ওয়্যার হাউজ থাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করে সংশ্লিষ্ট বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। উৎসে আয়করকে চূড়ান্ত উৎস করদায় হিসেবে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করতে হবে।

রপ্তানি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স হার ১২ শতাংশ এবং গ্রিন কারখানার জন্য ১০ শতাংশ আগামী পাঁচ বছর বলবৎ রাখা। রপ্তানির বিপরীতে প্রদত্ত নগদ সহায়তার ওপরে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ নির্ধারণ। তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অ্যাসেসমেন্টের সময় কর আরোপকালে অগ্রহণযোগ্য খরচ ও অন্যান্য আয়ের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স হার ১২ শতাংশ ও গ্রিন কারখানার জন্য ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া সব ধরনের ম্যান মেইড ফাইবার শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ প্রদানে বিটিএমএ’র প্রস্তাবে বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি সম্মতি দেন। পাশাপাশি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিভাগীয় ভ্যাট অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বিধান রহিত করা, সব অগ্নি-নির্বাপণ যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ বিকল বা নষ্ট হলে অগ্নি-নির্বাপক দরজার ন্যায় একই শর্তে প্রতিস্থাপনের জন্য রেয়াতি হারে শুল্কায়নের মাধ্যমে আমদানির সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

একই সঙ্গে রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেজিং সিস্টেমের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে মূলধনী যন্ত্রপাতির ন্যায় রেয়াতি হারে শুল্কায়ন করা, অনূর্ধ্ব ১০ কেজি ক্যাপাসিটির ওয়াশিং ও ড্রাই মেশিন আমদানিকালে মূলধনী যন্ত্রপাতির ন্যায় রেয়াতি হারে শুল্কায়নের সুযোগ দেওয়া, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট স্থাপনের জন্য আমদানিকারকরা রাসায়নিকের শুল্ক ও মূসক শূন্য শতাংশ রাখার প্রস্তাব করেছে বিকেএমইএ। এনবিআর চেয়ারম্যান সংগঠনটির প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে বলে জানান।