লিভারে চর্বিজনিত ব্যথা দূর করতে যা করবেন


resma প্রকাশিত: ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ ২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
লিভারে চর্বিজনিত ব্যথা দূর করতে যা করবেন

ইতিহাস ডেস্ক: লিভারে যাদের চর্বি হয়, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় খুব বেশি ব্যাথা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে লিভারের চর্বি কমানোর জন্য যেসব উপায় আছে, সেগুলো মেনে চেলার চেষ্টা করতে হবে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিভার, পরিপাকতন্ত্র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল-কাইয়ুম।

তিনি বলেন, এখন ব্যথার ওষুধ আসলে আমরা বেশি দিই না। প্যারাসিটামল বা ট্রামাডল জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকি, সেগুলো খেতে পারেন। উচ্চতা অনুযায়ী আপনার নির্ধারিত যে ওজন, সেটা তার চেয়ে যদি বেশি থাকে, ওজনটা অবশ্যই কমিয়ে ফেলবেন। কারণ, আমরা গবেষণার মাধ্যমে পেয়েছি, লিভারের চর্বি যদি কমাতে হয়, তাহলে ওজন কমানোটাই হচ্ছে আসলে মূল চিকিৎসা।

রোগীদের উদ্দেশে ডা. আব্দুল্লাহ আল-কাইয়ুম বলেন, এখনকার যে আপনার ওজন, তার থেকে যদি আপনি ৫-১০ শতাংশ ওজন কমিয়ে ফেলতে পারেন, তাহলেই কিন্তু আপনার অতিরিক্ত যে চর্বিটা সেটা কিন্তু বের হয়ে যাবে। পরবর্তীতে এই চর্বি থেকে খারাপ কিছু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

আপনি চেষ্টা করবেন প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার। খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে তৈলাক্ত খাবারগুলো একদম কমিয়ে, ভাতের পরিমাণটাও কমিয়ে দিয়ে শাক-সবজি বাড়ানো। মাছ-মাংসের মধ্যে রেডমিটা এড়িয়ে অন্যান্য সবকিছুই খেতে পারবেন। শুধু আমরা চেষ্টা করি তৈলাক্ত খাবার, যেমন- গরু, খাসির মাংস, পোলাও, কোরমা, বিরিয়ানি আর ভাতের পরিমাণটা একটু কমিয়ে দিতে। এই জিনিসগুলো একটু এড়িয়ে চলা আর ওজনটা কমানোর চেষ্টা করবেন। আশা করছি, ব্যথা আস্তে আস্তে কমে আসবে।

লিভারের চর্বি কিন্তু অনেক বছর ধরে বা অনেকদিন ধরেই আসলে জমতে থাকে। একসময় যখন বড় হয়ে যায় লিভারটা, তখনই আসলে ব্যথা শুরু হয়। এজন্য আপনাকে ধৈর্য ধরে আস্তে আস্তে ওজনটা কমিয়ে লিভারের চর্বিটা যখন কমে আসবে, তখনই কিন্তু ব্যথাটা একদম কমে যাবে। তার আগ পর্যন্ত ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা ট্রামাডল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।

ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট জোরে হাঁটবেন, যাতে আপনার ওজনটা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আর যদি ওজন আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে বা স্বাভাবিক থাকে তারপরও হাঁটবেন। কারণ হাঁটার এখানে কোনো বিকল্প নেই। কারণ, আপনি যদি না হাঁটেন, আপনার ওজন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে।

পাশাপাশি ডায়াবেটিস, প্রেশার- এই রোগগুলোও যদি থাকে, এগুলো অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। না হলে কিন্তু পরবর্তীতে হার্ট-অ্যাটাক, স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকবে। এজন্য অবশ্যই প্রেশার, ডায়াবেটিস বা রক্তে চর্বি থাকলে, সেগুলোরও পরিপূর্ণ চিকিৎসা নেবেন।