সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব চেয়ে জনপ্রশাসনের নতুন নির্দেশনা


sujon প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ ৫ মার্চ , ২০২২
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব চেয়ে জনপ্রশাসনের নতুন নির্দেশনা

বিশেষ প্রতিবেদক : সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দিতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি নতুন নির্দেশনা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিধিমালাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিল ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির নিয়ম মানতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত বছরের ২৪ জুন চিঠি পাঠানো হয়।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর সম্পদবিবরণী দাখিলের নিয়ম আছে। ওই আইনের আওতায় এ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে গত ২৬ জুন নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সূত্র মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগ থেকে দেওয়া চিঠির বিপরীতে একজন চাকরিজীবীও সাড়া দেননি।

পরে ৬ জানুয়ারি আরও একটি চিঠি ইস্যু করেছে। আগের দেওয়া নির্দেশনা ও সাড়া না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসন শাখায় তথ্য পাঠানোর জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ চিঠির পর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অধীন দপ্তর-সংস্থাসহ নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাগিদ দিয়েই যাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর আওতাভুক্ত সব সরকারি কর্মকর্তা তাদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল, উক্ত সম্পদ বিবরণী ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়ন্ত্রণকারী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন/বিক্রয়ের বিষয়ে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর ১১, ১২ ও ১৩ বিধি প্রতিপালন পূর্বক এ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে পুনরায় অনুরোধ করা হলো।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাটাবেজ থেকে যাতে সহজে বুঝা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কোন কোন কর্মচারীকে হিসাব জমা দিতে হবে, কে জমা দিয়েছে কিংবা কে জমা দেয়নি। সহজে হিসাব জমা দেওয়ার জন্য একটি ফরমও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

গত বছরের ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৪ শাখার চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর বিধি ১১, ১২ ও ১৩-তে সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন, বিক্রয় ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত বিধিসমূহ কার্যকরভাবে কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে জোর নির্দেশনা দিয়েছে।

এমতাবস্থায়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর আওতাভুক্তদের তাদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/দপ্তর/অধীনস্থ সংস্থায় কর্মরত সব সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিল, উক্ত সম্পদ বিবরণীর ডাটাবেজ তৈরি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও বিক্রয়ের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর ১১, ১২ এবং ১৩ বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিপালনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই চিঠিতে।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীর জমি/বাড়ি/ফ্ল্যাট/সম্পত্তি ক্রয় বা অর্জন ও বিক্রির অনুমতির জন্য আবেদনপত্রের নমুনা ফরম ও বিদ্যমান সম্পদ বিবরণী দাখিলের ছকও চিঠির সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।