সরকারি চাকরি পেতে শর্টহ্যান্ড-টাইপ প্রশিক্ষণ নিন


rupali প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ ২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২২
সরকারি চাকরি পেতে শর্টহ্যান্ড-টাইপ প্রশিক্ষণ নিন

রুহুল ইমতিয়াজ: বাংলাদেশে ক্রমাগত হারে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক বছরের বাংলাদেশের বেকারত্বের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রতিবছর দেশে কমপক্ষে নতুন ১ লাখ বেকার বাড়ছে। যদিও বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

দেশের এসব শিক্ষিত বেকার যুবক বি.এ./এম.এ. পাস করে সোনার হরিণ নামক চাকরির জন্য হন্য হয়ে ঘুরছেন। অথচ মাত্র এইচ.এস.সি পাস করে তিন মাসের কোর্সে শর্টহ্যান্ড ও কম্পিউটার টাইপ শিখে কোন প্রকার তদবির ছাড়া সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পি.এ. হিসেবে সম্মানি পদে চাকরি পাওয়া খুবই সহজ এবং সম্ভব। শুধু মাত্র ইচ্ছা করলেই বদলে দেওয়া সম্ভব অর্থনৈতিক মুক্তিসহ নিজের পুরো পরিবার ও সমাজকে। আর এজন্য প্রয়োজন- ইচ্ছা, সময়, ধৈয্য, সামান্য কিছু অর্থ ও সামান্য কারিগরি শিক্ষাসহ পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস।

দেশের প্রায় সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে স্টেনো-টাইপিষ্ট, স্টোনোগ্রাফার (পি.এ), অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর পদে অসংখ্য শুন্য পদ রয়েছে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বিধি মোতাবেক বার বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও অনেক সময় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি না পাওয়ায় লোকবল নিয়োগে দারুণ সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কোননা কোন সরকারি-স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে এ সমস্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়।

নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় ২০টি পদের বিপরীতে ৫০০ জন প্রার্থী পরীক্ষা দিলে যোগ্যতার ভিত্তিতে ৫ জনের চাকরি হলেও যোগ্যতা সম্পন্ন লোকের অভাবে বাকি ১৫টি পদই শুন্য থেকে যায়। অনেকের ধারণা ঘুষ বা মামু-খালু ছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন, দুষ্কর এবং রীতিমত অকল্পনীয়। কিন্তু দেখা যায় কারিগরি পদের ক্ষেত্রে ধারণাটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। কারণ যিনি ড্রাইভিং জানেন না, তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেই দূর্ঘটনা থেকে মুক্ত নন। গাড়ি চালাতে সক্ষম না হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে কোন কর্তৃপক্ষই চাকরি দিবেন না, যদি তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয়ও হন। ঠিক একইভাবে যিনি ভাল শর্টহ্যান্ড ও ভাল টাইপ জানবেন না, তিনি উপরস্ত কর্মকর্তার চাচাতো-খালাতো ভাই হলেও উপরোক্ত পদগুলোতে চাকরি পাওয়ার সম্ভবনা কম।

একজন এইচ.এস.সি/বি.এ পাস ব্যক্তির জন্য স্টেনো-টাইপিষ্ট, স্টেনোগ্রাফার (পি.এ) ও কম্পিউটার অপারেটর পদ খুবই সম্মান জনক। এতে সরকারি বর্তমান বেতন স্কেল ৯০০০/- থেকে ১১০০০/- টাকা, যাতে বেতন পাওয়া যায় ২৫ হাজার টাকার উপরে, সাথে পি.এ হিসেবে সম্মানতো থাকছেই। বর্তমানে বেসরকারি অনেক ভাল প্রতিষ্ঠান শর্টহ্যান্ড-কম্পিউটার টাইপ শিখিয়ে বেকার সমস্যা দূরীকরণে প্রশংসার দাবী রাখছে।

ইন্টারমেডিয়েট-এ সাচিবিক বিদ্যা বিষয়টি শর্টহ্যান্ড-টাইপ বিষয়ের হলেও শিার্থীরা ঐচ্ছিক বিষয় হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় শর্টহ্যান্ডের ‘শ’ও ঠিকমত লিখতে পারে না। তাই সরকারি চাকরি প্রত্যাশিদের জন্য স্বপ্নঘর টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু করেছে ৩ ও ৬ মাসব্যাপী শর্টহ্যান্ড-টাইপ কোর্স। স্বপ্নঘরে কোর্সটি করে পুরোপুরি নিজেকে যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা যায় এবং তিন থেকে ছয় মাস বা সর্বাধিক ১ বছরের মধ্যে কয়েকটি দরখাস্ত করে যে কোন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া সম্ভব।

যোগ্যতার ক্ষেত্রে টাইপে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন বাংলা ২০, ইংরেজিতে ২৫ শব্দ এবং সাঁটলিপিতে বাংলায় ৭০ ও ইংরেজিতে ৮০শব্দ লেখার যোগ্যতা থাকতে হবে। মাসিক বেতন মাত্র ৫০০ টাকা। খুব সহজ পদ্ধতির এই শর্টহ্যান্ড অল্প সময়ের মধ্যে আয়ত্ত্ব করা সম্ভব। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন কৌশল শিখানোসহ চাকরি পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। ভাল শর্টহ্যান্ড-টাইপ জানার ফলে একেক জনের এক-দেড় ডজন সরকারি হয়েছে এমন নজির অনেক রয়েছে। অথচ অনেকেই বি.এ পাস করে এম.এল.এস.এস পদে চাকরির জন্য ধারে ধারে ঘুরে বেড়ায়। এইচ.এস.সি পাসসহ বি.এ/এম.এ ডিগ্রীধারীরাও কোর্সটি করে সাবলম্বি হওয়ার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে।

স্বপ্নঘর থেকে আরো যেসব প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত স্বপ্নঘর টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো-সরকারি চাকুরীর লিখিত পরীক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার টাইপ, ইলেক্ট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং, বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ, শর্টহ্যান্ড (বাংলা ও ইংরেজি), গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং, ফ্রিল্যান্সিং, ইন্টারনেট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, হার্ডওয়্যার এবং কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

স্বপ্নঘর টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অনেকেই সরকারি-বেসরকারি চাকুরী পেয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানের বিশেষ দিক

Ø সার্বক্ষণিক ল্যাবের সু-ব্যবস্থা।

Ø শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য সার্বক্ষণিক শিক্ষকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ।

Ø দেশের শীর্ষস্থানীয় ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলী দ্বারা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা পদ্ধতি প্রদান।

Ø সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকার্তাদের দ্বারা শিক্ষাদান ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শের ব্যবস্থা করা হয়।

Ø কী কী পড়লে, কিভাবে পড়লে অধিক কমন পাবেন, প্রশ্ন পত্রের ধরণ সম্পর্কে নির্ভুল ও সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Ø সকল শিক্ষার্থীদেরকে ইংরেজিতে দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

Ø সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

Ø সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল শেখানো হয়।

Ø পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভুল দিক নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে, যা নিশ্চিত করতে পারে আপনার উত্তীর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা।

Ø প্রতিষ্ঠান থেকে সকল চাকরির আবেদন করে দেওয়া হয়, যেন কোন চাকরির আবেদন বাদ না পড়ে।

Ø কার্যকর নিজস্ব পাঠ পদ্ধতি, পাঠ আদায় পদ্ধতি ও প্রয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলা হয়।

Ø চাকুরীর প্রস্তুতির জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গবেষণায় তৈরি গুণগত মান সম্পন্ন একদম নির্ভুল নিজস্ব লেকচার সীট ও গাইড বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

Ø প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ৯০-১০০ ভাগ কমনের নিশ্চয়তা প্রদান।

Ø সার্বক্ষণিক পড়ার জন্য কক্ষের সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

Ø মেধা ও প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে অনন্য মানুষে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণার্থীদেরকে মেডিটেশন করানো হয়।

Ø বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হলে সনদপত্র প্রদান করা হবে।

Ø গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পার্টটাইম কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি এ প্রশিক্ষণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ভর্তির জন্য যোগাযোগ করুন:-স্বপ্নঘর টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ৬০, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭। মোবাইল: ০১৫৭৫০৬৩৭৭৬। (কোর্সের মেয়াদ ৩ ও ৬ মাস, সরকারি চাকরি না হওয়া পর্যন্ত প্র্যাকটিসের সুবিধা)

লেখক: রুহুল ইমতিয়াজ, পরিচালক, স্বপ্নঘর টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।