হজের জন্য কেনা ইহরামের কাপড়ে সাবেক সচিব মনোয়ারের দাফন


sraboni প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ ২ জুলাই , ২০২২
হজের জন্য কেনা ইহরামের কাপড়ে সাবেক সচিব মনোয়ারের দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে সচিব দম্পতি হাতে গোনা। তাদের মধ্যে অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সচিব মনোয়ার আহমেদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) সাহিন আহমেদ চৌধুরী।

হজ পালনের জন্য ইআরডি সাবেক সচিব মনোয়ার আহমেদের শনিবার (২ জুলাই) সৌদি আরবের ফ্লাইট ধরার কথা। সেই অনুযায়ী সব প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ করেছিলেন। হজে যাওয়ার জন্য পাঁচটি ইহরামের কাপড় কিনেন। কিন্তু হজে না গিয়ে চিরকালের জন্য চলে গেলেন ওপারে। সেই ইহরামের কাপড় পরিয়েই শনিবার বনানী কবরস্থানে মা মনোয়ারা বেগমের কবরে শায়িত করা হয় সাবেক সচিব মনোয়ারকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) ভারতের নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির সময় তার মৃত্যু হয়। স্বামীকে হারিয়ে পাগল প্রায় সাবেক সিনিয়র সচিব সাহিন আহমেদ চৌধুরী। চাকরি জীবনেও পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেছেন দুজনে। একই ক্যাম্পাস (পরিকল্পনা কমিশন) থেকে নিয়িছেন অবসর।

সাহিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আজকে হজে যাওয়ার কথা ছিল। সৌদি না গিয়ে আজকে বনানী কবরস্থানে চলে গেলো। হজের ময়দানে ব্যবহারের জন্য ইহরামের কাপড়ও কিনেছিলাম। অথচ সেই কাপড় পরিয়ে তাকে কবর দেওয়া হলো।’পরিবারিক সূত্র জানায়, সুস্থ ছিলেন মনোয়ার। হজে যাওয়ার জন্য পরিবারের অনুরোধে হার্টের পরীক্ষা করান। এর পর হার্টে ব্লক ধরা পড়লে জরুরিভিত্তিতে ভারতে সার্জারি করতে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

মনোয়ার আহমেদের মরদেহ শনিবার সকালে দিল্লি থেকে ঢাকার ধানমন্ডি বাসায় নেওয়া হয়। বাসায় ছুটে যান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) আহমদ কায়কাউসসহ সরকারের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা। এর পরে ধানমন্ডি বাসা থেকে মনোয়ার আহমেদের মরদেহ নেওয়া হয় ধানমন্ডির ৭/এ বাইতুল আমান মসজিদে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সহকর্মীরা জানান, ব্যক্তি জীবনে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন মনোয়ার আহমেদ। দেশের সুনাম বৈশ্বিকভাবে উজ্জ্বল করতে ইআরডির সব উইং থেকে নানা ধরনের কর্মসূচিও তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ যাতে করে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে স্বল্পসুদে ঋণ পেতে পারে সেই বিষয়ে নানা ধরনের নেগোসিয়েশন করেছেন। কাজের দক্ষতার জন্য সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সুপারিশ করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মনোয়ার আহমেদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সচিক সুলতানা আফরোজ বলেন, স্যারকে কাছ থেকে দেখেছি একজন সৎ ও কর্মঠ মানুষ। সারাদিন কাজ ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। বৈশ্বিকভাবে দেশের সুনাম তুলে ধরতে স্যার অনেক ভূমিকা রেখেছেন। স্যারের হঠাৎ চলে যাওয়া দেশের জন্য অনেক ক্ষতি।’