৭ ই মার্চ বাংলাদেশের মুক্তির ঘোষণা


sujon প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ ৭ মার্চ , ২০২২
৭ ই মার্চ বাংলাদেশের মুক্তির ঘোষণা

কে. এম. রহমাতুল্লাহ রাহাত : আজ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। শুধু স্বাধীনই নয় স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচক গুলোতে চোখ ধাঁধানো সাফল্য অর্জন করেছে এই দেশটি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অগ্রগতি, সমৃদ্ধির পেছনে যে অনুপ্রেরণা কাজ করেছে তা হলো বঙ্গবন্ধু ও তার ৭ ই মার্চের ভাষণ। মাত্র১৯ মিনিটের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের২২ বছরের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত চমৎকারভাবে।

বর্ননা করেছেন আমাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা। বলেছেন এ বৈশম্য থেকে উত্তরনের উপায়।তৎকালীন পরিস্থিতিতে বাঙালির কি করনীয়, কি বর্জনীয় তারও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিলো এই ভাষনে।

হুঁশিয়ার করেছেন পাকিস্তানিদের, উবুদ্ধ করেছেন বাঙ্গালীদের। তার চমৎকার বাচনভঙ্গি , রচনাশৈলী, সুচিন্তিত পরামর্শ মনের গহীনে গেথে গেছে প্রতিটি বাঙালির। স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু সরাসরি ঘোষণা না দিয়ে তার দূরদর্শীতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন।

কারন তখনও আমরা পাকিস্তানের অধীনে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিবেচনা করে তখনই গ্রেপ্তার করত পাকিস্তানিরা। থমকে যেত আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা না দিলেও তার জন্য কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে তার নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন।

তিনি বাংলাদেশীদের সাহস দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। সর্বোপরী ‘স্বাধীনতা ‘ শব্দটি আমাদের করে গেছেন।

আজ সেই ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ। সারাদেশে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে পালিত হচ্ছে এই দিনটি। এই দিবসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সমূহ। তাদের সবার একটই উদ্দেশ্যে ৭ ই মার্চের তাৎপর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

লেখক : কে. এম. রহমাতুল্লাহ রাহাত
শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়